ইসলাম ধর্মের পরিচয় (The identity of Islam) - Dr. Zakir Naik Bangla Lecture
ইসলাম ধর্মের পরিচয় (The identity of Islam)
১.ইসলামের সংজ্ঞা
ইসলাম একটি আরবি শব্দ যা ' সালম এবং সিম শব্দ থেকে এসেছে : অর্থ শান্তি এবং অর্থ সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে নিজের ইচ্ছাকে সমর্পণ করা। সংক্ষেপে ইসলাম অর্থ হচ্ছে আল্লাহর (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) কাছে নিজের ইচ্ছাকে সমর্পণ করার মাধ্যমে শান্তি লাভ করা। কুরআন ও হাদীসের বহু স্থানে ইসলাম কথাটির উল্লেখ রয়েছে। যেমন, সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯ এবং ৮৫।
ان الدين عند الله الاسلام.
অর্থ : “নিশ্চয়ই ইসলামই আল্লাহর নিকট মনােনিত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা”।
ان الدين عند الله الاسلام.
অর্থ : “নিশ্চয়ই ইসলামই আল্লাহর নিকট মনােনিত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা”।
২ মুসলিমের সংজ্ঞা
সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে যে নিজের ইচ্ছাকে সমর্পণ করে সে-ই মুসলিম। কুরআন ও হাদীসের বহু স্থানে মুসলিম কথাটির উল্লেখ রয়েছে। যেমন : সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৬৪ এবং সূক্স ফুসসিলাত, আয়াত ৩৩
قولوا اشهدوا بانا مسلمون.
অর্থ : “তােমরা সাক্ষী থাক নিশ্চয়ই আমরা মুসলমান”।
قولوا اشهدوا بانا مسلمون.
অর্থ : “তােমরা সাক্ষী থাক নিশ্চয়ই আমরা মুসলমান”।
৩.ইসলাম সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা
অনেকেরই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে ইসলাম একটি নতুন ধর্ম যা এসেছে ১৪০০ বছর আগে এবং যার প্রতিষ্ঠাতা হলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। আমি এখানে স্পষ্ট করে বলতে চাই যে ইসলাম কোনাে নতুন ধর্মের নাম নয়, যা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন এবং এই যুক্তিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা বলা যায় না। কুরআনের বর্ণনা মতে, আল্লাহ্ ইসলামকে (মানুষের একমাত্র সৃষ্টিকর্তার কাছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ) একমাত্র ধর্মবিশ্বাস ও জীবনবিধান হিসেবে সৃষ্টির শুরু থেকেই মানবজাতির কাছে প্রেরণ করেছেন। হযরত নূহ (আ.), হযরত সুলাইমান (আ.), হযরত দাউদ (আ.), হযরত ইবরাহীম (আ.), হযরত ইসহাক (আ.), হযরত মুসা (আ.) এবং হযরত ঈসা (আ.)-সহ যেসব নবী-রাসূলগণ বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন স্থানে আগমন করেছেন তারা সকলেই একই বিশ্বাস এবং বাণী প্রচার করেছেন, যার মধ্যে আছে তাওহীদ (আল্লাহর একত্ববাদ), রিসালাত (নবুওয়ত) এবং আখিরাত (মৃত্যুর পরের জীবন)। আল্লাহর এসকল নবীরাসূলগণ স্নি ভিন্ন ধর্মের প্রবর্তক নন। তারা প্রত্যেকেই তাদের পূর্বসূরিদের বাণী ও বিশ্বাস প্রচার করেছেন।
যাহােক, মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন আল্লাহর শেষ নবী ও রাসূল। আল্লাহর সব রাসূলগণ যে সত্য দ্বীন প্রচার করেছেন সেই একই দ্বীনকে আল্লাহ তার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। এই সত্যবাণীকে বিভিন্ন যুগের মানুষ বিকৃত করে। এতে বাইরের বাণী আরােপ করে এবং এতে অন্যকথার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে সত্য দ্বীনকে নানা ধর্মে বিভক্ত করা হয়। আল্লাহ এসব বাইরের উপাদান নিমূল করেন এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) মাধ্যমে ইসলামকে এর বিশুদ্ধ ও প্রকৃতরূপে মানবজাতির নিকট প্রেরণ করেন।
মহানবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) পর যেহেতু আর কোন নবী আসবেন না, তাই তার নিকট প্রেরিত গ্রন্থটির প্রতিটি শব্দ সংরক্ষণ করা হয় যাতে তা সবযুগে হেদায়েত বা পথনির্দেশিকার উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই সব
নবীদের দ্বীনই ছিল ‘আল্লাহর ইচ্ছার কাছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ', আর আরবি | ভাষায় একে বােঝনাের জন্য একটি শব্দই রয়েছে তা হলাে ইসলাম। হযরত ইবরাহীম (আ.) ও হযরত ঈসা (আ.) (যিশুখ্রিস্ট) যে মুসলমান ছিলেন পবিত্র কুরআনের সূরা আল ইমরানের ৫২ এবং ৬৭ নম্বর আয়াতে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
إلى الله ط قال لها أحس عيسى منهم المخفر قال من أنصار الحواریون نحن أنصار الله ج أما بالله ج واشهد بانا مسلمون.
অর্থ : অতপর যখন ঈসা (আ.) তাদের মধ্যে কুফুরীর ব্যাপারে অবগত হলেন
তখন তিনি বললেন, তােমাদের মধ্য থেকে কারা আল্লাহর জন্য সাহায্যকারী হবে? হাওয়ারীরা বলল, আমরাই আল্লাহর সাহায্যকারী হব। আমরা আল্লাহর | ওপর ঈমান আনয়ন করেছি। সাক্ষী থেক যে, নিশ্চয়ই আমরা মুসলমান”।
ما كان ابراهيم يهوديا ولا نصرانيا ولكن كان حنيفا مسلماط وما كان من المشركين.
অর্থ : “ইবরাহীম (আ.) ইহুদী বা নাসারা ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলমান। আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না”

