Type Here to Get Search Results !

বিশ্বগ্রাম কাকে বলে বলতে কি বুঝায়, বিশ্বগ্রামের সুবিধা, কি কি নিয়ে বিশ্বগ্রাম গঠিত

হাই বন্ধুরা আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে , বিশ্বগ্রাম কাকে বলে বলতে কি বুঝায়,  বিশ্বগ্রামের সুবিধা, কি কি নিয়ে বিশ্বগ্রাম গঠিত  তা নিয়ে বিস্তারিত জানব।


এই পোস্টটি পাঠ করার মাধ্যমে  আপনার যা যা জানতে পারবেন

  • বিশ্বগ্রামের জানতে পারবেন
  • বিশ্বগ্রামের সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারবেন। 
  • বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়ােজনীয় উপাদানসমূহ  সম্পর্কে জানতে পারবেন


বিশ্বগ্রাম : বিশ্বগ্রাম কাকে বলে বা বলতে কি বুঝায়?

গ্রাম বা Village শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। বর্তমানে এর সাথে Global শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে Global Village নামক একটি নতুন ধরণা প্রচলিত হয়েছে যার অর্থ হলাে বৈশ্বিক গ্রাম বা বিশ্বায়ন। বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর ব্যাপক ব্যবহার ও প্রভাবে আজ বিশ্বের যে কোন দেশের মানুষ অন্য দেশের মানুষের সাথে খুব সহজেই যােগাযােগ করতে পারছে। গ্রামে যেমন আমরা সহজেই আশেপাশের মানুষের খবর জানতে পারি তেমনি বর্তমানে আমরা তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির কল্যাণে এক দেশে বসে অন্য দেশে প্রতিবেশির মতাে তথ্য বিনিময় করতে পারি। এটাই মূলত বিশ্বগ্রামের ধারণা। কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিখ্যাত দার্শনিক মারশেল ম্যাকলুহান (Marshall McLuhan) সর্বপ্রথম গ্লোবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রাম কথাটি ব্যবহার করেন। মারশেল ম্যাকলুহান ১৯১১ সালের ২১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮০ সালের ৩১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সর্বপ্রথম ১৯৬২ সালে তাঁর রচিত 'The Gutenberg Galaxy: The Making of Typographic' গ্রন্থে বিশ্বগ্রামের ধারণা দেন। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে Understanding Media' গ্রন্থে বিশ্বগ্রাম সম্পর্কে আরাে বিস্তারিত বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, * ইলেক্ট্রনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা বিশ্বকে একটি গ্রামে পরিণত করাই হল বিশ্বগ্রাম। যার মাধ্যমে খুব সহজেই পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের মানুষের সাথে মুহূর্তের মধ্যে যােগাযােগ করা সম্ভব।” এখানে ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি বলতে ইন্টারনেটকে বুঝানাে হয়েছে। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জাতিগােষ্ঠীকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসা হলাে গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম। বিষয়টিকে আর একটু পরিষ্কার করা যেতে পারে যেমন কোন একটি অঞ্চলের অথবা দেশের অধিবাসীরা যেমন নিজেদের মধ্যে ভাবের আদান প্রদানে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ থাকে ঠিক তেমনি সারা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জনগােষ্ঠী ইন্টারনেট কিংবা স্যাটেলাইট টেলিভিশন ইত্যাদির মাধ্যমে একটি একক সম্প্রদায় তথা যৌথ সমাজ হিসেবে আবদ্ধ হতে পারে। আর এটিই হলাে গ্লোবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রাম।

বিশ্বগ্রামের সুবিধা

তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও আধুনিক সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে মানুষ গ্লোবাল ভিলেজে | প্রবেশ করছে। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনে অনেক সুবিধা ভােগ করছে। গ্লোবাল ভিলেজের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুবিধা নিম্নরূপ:
  • তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ বর্তমানে সারা বিশ্বের সাথে সহজেই যােগাযােগ করতে পারছে। 
  • মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। 
  • মানুষের কাজের দক্ষতা ও গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
  • অনলাইনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে ই-কমার্সের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারছে
  • টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই দক্ষ চিকিৎসকের সেবা নিতে পারছে। 
  • ই-লার্নিং এর মাধ্যমে ঘরে বসেই বিশ্বের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষসেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে
  • বিশ্ব ভাতৃত্ববােধ জাগ্রত হচ্ছে; ইত্যাদি।

বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়ােজনীয় উপাদানসমূহ হলাে

  • হার্ডওয়্যার (Hardware) 
  • সফটওয়্যার (Software) 
  • কানেকটিভিটি (Connectivity)
  • উপাত্ত ও তথ্য (Data and Information)
  • সক্ষমতা (Capacity)

হার্ডওয়্যার : 

বিশ্বগ্রামে যে কোন ধরনের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য প্রয়ােজন উপযুক্ত হার্ডওয়্যার সামগ্রীর। হার্ডওয়্যারের মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার এবং এর সাথে যুক্ত পেরিফেরাল যন্ত্রপাতি, মােবাইল ফোন, স্যাটেলাইট, অডিও-ভিডিও রেকর্ডার, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি। 

সফটওয়্যার : 

বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি প্রয়ােজন সফটওয়্যার। সফটওয়্যারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন | সিস্টেম সফটওয়্যার, এ্যাপ্লিকেশন সফ্টওয়্যার, ব্রাউজিং সফটওয়্যার, কমিউনিকেটিং সফ্টওয়্যার, প্রােগ্রামিং ভাষা ইত্যাদি। 

কানেকটিভিটি : 

বিশ্বগ্রামের প্রতিটি মানুষ যাতে নিরাপদে তথ্য ও উপাত্ত আদান-প্রদান করতে পারে এবং পরস্পরের সাথে। যােগাযােগ করতে পারে সেজন্য প্রয়ােজন নেটওয়ার্ক বা কানেকটিভিটি। বিশ্বের তথ্য ভান্ডারের সাথে সার্বক্ষণিকভাবে বা প্রয়ােজনে যুক্ত থেকে তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কানেকটিভিটি মূল ভূমিকা পালন করে। 

উপাত্ত ও তথ্য

উপাত্তকে প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমেই ব্যবহারযােগ্য তথ্যে পরিণত করা হয়। বিশ্বগ্রামে উপাত্ত ও তথ্যকে মানুষের প্রয়ােজনে একে অপরের সাথে বিনামূল্যে বা অর্থের বিনিময়ে শেয়ার করতে হয়। 

সক্ষমতা : 

বিশ্বগ্রামের উপাদানগুলাের মধ্যে মানুষের সক্ষমতা অন্যতম। যেহেতু বিশ্বগ্রাম মূলত তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর তাই এ বিষয়ে মানুষের সচেতনতা, স্বাক্ষরতা ও সক্ষমতা ইত্যাদির উপর এর প্রয়ােগ অনেকাংশে নির্ভর করছে। 

বিশ্বগ্রাম সারসংক্ষেপ 

বিশ্বগ্রাম বা Global Village বলতে সমগ্র বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট যে জাল বিস্তার করেছে তাকে বুঝানাে হয়। কানাডিয়ান। | লেখক হারবার্ট মার্শাল ম্যাকলুহান হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ শব্দটিকে সকলের সামনে তুলে ধরেন। বিশ্বগ্রামের মাধ্যমে খুব সহজেই পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের মানুষের সাথে মুহূর্তের মধ্যে যােগাযােগ করা যায়। | বিশ্বগ্রামে সামাজিক যােগাযােগের ক্ষেত্রে ফেসবুক, টুইটার প্রভৃতি সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.