Type Here to Get Search Results !

প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসে ধাপ, নামকরণের কারন ও নিয়মাবলির । প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসকরণের প্রয়ােজনীয়তা

এই আটিকেলে আমরা প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসে ধাপ, নামকরণের কারন ও  নিয়মাবলির । প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসকরণের প্রয়ােজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তরিত জানব।

বিভিন্ন ধরনের প্রাণীকে শ্রেণিতে বিন্যস্ত করার প্রয়ােজনীয়তা

শ্রেণিবিন্যাস স্তর বা ধাপ কি বা কাকে বলে?

জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে শ্রেণিবিন্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শ্রেণিবিন্যাস করার সময় প্রাণীদের বিভিন্ন স্তরে বা ধাপে স্থাপন করা হয়। এসকল স্তর বা ধাপকে শ্রেণিবিন্যাস স্তর বা ধাপ বলে। 

ট্যাক্সন কি বা কাকে বলে? 

যে সকল প্রাণী বা প্রাণিগােষ্ঠীকে শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্তর বা ধাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয় সে সকল প্রাণিগােষ্ঠীকে ট্যাক্সন (taxon), বহুবচনে ট্যাক্সা (taxa) বলে। ট্যাক্সন হচ্ছে শ্রেণিবদ্ধগত একক। 


প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসে ধাপ কয়টি ও কি কি?

বর্তমানে প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসে সাতটি ধাপ ব্যবহার করা হয়। যথা

1. Kingdom (রাজ্য) 
2. Phylum (পর্ব) 
3. Class (শ্রেণি) 
4. Order (বর্গ) 
5. Family (গােত্র) 
6. Genus (গণ)
7. Species (প্রজাতি) 


প্রাণীর নামকরণের কারন ও  নিয়মাবলির গুরুত্বপূর্ণ দিক

প্রতিটি প্রাণীর একটি বৈজ্ঞানিক নাম থাকতে হবে যা অবশ্যই ICZN (International Commission on Zoological Nomenclature) এর নামকরণের নিয়মাবলি কর্তৃক স্বীকৃত হতে হবে। ICZN এর নিয়মাবলিগুলাে International Code of Zoological Nomenclature এ লিপিবদ্ধ করা হয়। ১৯০১ সালে নিয়মগুলাে প্রথম প্রকাশিত হয় যা ১৯৬১ সালে সংশােধনের পর ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে গৃহীত হয়। 


নিম্নে প্রাণীর নামকরণের নিয়মাবলির গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করা হলাে

১। প্রতিটি প্রাণীর একটিমাত্র বৈজ্ঞানিক নাম থাকবে। 

২। প্রাণীর দ্বিপদ নামের দুটি অংশ এবং ত্রিপদ নামের তিনটি অংশ থাকবে। দ্বিপদ নামের প্রথম অংশ গন এবং দ্বিতীয় অংশ প্রজাতি নির্দেশক। ত্রিপদ নামের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশ যথাক্রমে গণ, প্রজাতি ও উপপ্রজাতির নির্দেশক। 

৩। বৈজ্ঞানিক নামটি অবশ্যই ল্যাটিন ভাষায় হতে হবে অথবা ল্যাটিন ভাষায় রূপান্তরিত শব্দ দ্বারা গঠিত হতে হবে। 

৪। গণ নাম বিশেষ্য এবং প্রথম অক্ষর বড় হরফে হবে। প্রজাতি নাম গণ নামের বিশেষণ হবে এবং তার প্রথম অক্ষর ছােট হরফে হবে। 

৫। বৈজ্ঞানিক নাম লেখার সময় গণ নাম আগে বসবে এবং প্রজাতি নাম গণ নামের পরে বসবে। 

৬। বৈজ্ঞানিক নাম ছাপানাে হলে ইটালিক ফর্মে অর্থাৎ ডান দিকে বাঁকানাে হবে। এ নাম হাতে লিখলে ইংরেজি অক্ষর ব্যবহার করে গণ ও প্রজাতি অংশের নিচে আলাদাভাবে দাগ টানতে হবে। 

৭। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক নামই স্বীকৃতি পাবে। 

৮। প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামের শেষে জনকের নাম ও সন উল্লেখ করতে হবে। যেমন- Homo sapiens Linnaeus, 1758। 

৯। একাধিক গণ অথবা একই গণ এর অন্তর্ভুক্ত একাধিক প্রজাতির নাম এক হবে না। 

১০। নামকরণের সময় যে প্রাণীকে নমুনা হিসেবে ব্যবহার করা হবে তাকে টাইপ স্পেসিমেন (type specimen) হিসেবে পরীক্ষাগারে সংরক্ষিত অবস্থায় রাখতে হবে।


প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসকরণের প্রয়ােজনীয়তা 

শ্রেণিবিন্যাসকরণের প্রয়ােজনীয়তা (Importance of Classification)- প্রাণিবিজ্ঞানে শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়ােজনীয়তা অনেক। 

নিম্নে এর গুরুত্ব আলােচনা করা হলাে

১। শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে কোনাে প্রাণিগােষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাণী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করলে ঐ গােষ্ঠীর অন্যান্য প্রাণী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। 

২। প্রাণিজগতে অসংখ্য প্রাণীদের সম্বন্ধে অল্প সময়ে, অল্প পরিশ্রমে সহজে বিজ্ঞানসম্মতভাবে জানা যায়। 

৩। সাদৃশ্য ও সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রাণীকে শনাক্ত করতে শ্রেণিবিন্যাসের ভূমিকা অনেক। 

৪। শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে প্রাণীর জাতিজনিক সম্পর্ক নির্ণয় করে বিবর্তনের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। 

৫। নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণে শ্রেণিবিন্যাস অপরিহার্য। 

৬। শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমেই প্রাণিজগতের একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর নির্দিষ্ট স্থান, অস্তিত্ব ও সম্পর্ক নির্দেশিত হয়। 

৭। কৃত্রিম প্রজনন ও সংকরায়ন এর মাধ্যমে উন্নতজাতের পশু-পাখি উদ্ভাবনের জন্য শ্রেণিবিন্যাসের জ্ঞান অপরিহার্য। 

৮। প্রাণী শ্রেণিবিন্যাস বন্যপ্রাণি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

৯। জীবাশ্মের সম্বন্ধ নিরূপণে ও শনাক্তকরণে শ্রেণিবিন্যাস অত্যাবশ্যক। 

১০। শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রজাতির সঠিক পরিচয় সম্পর্কে অবগত হয়ে অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রাণী বাছাই করা যায়।

সারসংক্ষেপ 

কোন বিশেষ প্রাণীকে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে শ্রেণিবিন্যাসের নির্ধারিত নিয়ম কানুন ও পদ্ধতি অনুসারে প্রতিটি প্রজাতিভুক্ত প্রাণিদেরকে নির্দিষ্ট ও বিশেষ নাম দেয়া হয় তাকে বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে।

নামকরণের সাহায্যে প্রতিটি প্রজাতির একটি কওে সর্বজন স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক নাম দেয়া হয়। বর্তমানে প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসে সাতটি ধাপ ব্যবহার করা হয়। যথা-1. Kingdom (রাজ্য), 2. Phylum (পর্ব), 3. Class (শ্রেণি), 4. Order (বর্গ), 5. Family (গােত্র), 6. | Genus (গণ) ও 7. Species (প্রজাতি)।



১। দ্বিপদ নামকরণের নীতি কে প্রবর্তন করেন? 

ক. ল্যামার্ক

খ. লিনিয়াস গ. অ্যারিস্টটল

ঘ. রবার্টহুক 


২। প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসের ধাপ

i. Kingdom ii. Phylum

iii. Species নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii 

খ. i ও iii 

গ. ii ও iii 

ঘ. i, ii ও iii

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.