Type Here to Get Search Results !

নন-কর্ডাটা প্রাণীর পর্বগুলাে কি কি, ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য

হাই বন্ধরা আমরা এই আটিকেলে  নন-কর্ডাটা প্রাণীর প্রধান পর্বসমূহ বৈশিষ্ট্য, ব্যাখ্যা, প্রাণীর উদাহরন সহ বিস্তারিত ভাবে জানার চেষ্টা করব।

নন-কর্ডাটা প্রাণীর প্রধান পর্বসমূহ

প্রাণী সম্পর্কে জ্ঞান আহরণের জন্য প্রাণীদের নাম এবং এদের সম্পর্কে বিবরণ থাকা প্রয়ােজন। ফলে পারস্পরিক সম্পর্কে দিক থেকে কোন প্রকারের শ্রেণিবদ্ধকরণ জরুরী এবং ট্যাক্সোনমি বা সিস্টেমেটিক জোয়লজির এটিই মুখ্য উদ্দেশ্য। ট্যাক্সোনমির দুটি শাখা, একটি শ্রেণিবিন্যাস এবং অন্যটি নামকরণ। শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাণী প্রজাতিকে একটি হায়ারারকিতে সাজানাে হয়। 

এই বইয়ে Hickman et al. রচিত Integrated Principles of Zoology, ২০১১ সালের ১৫তম সংস্করণের অনুসারে মােট পর্বের সংখ্যা ৩৫টি। এই ৩৫টি পর্বের মধ্যে প্রধান বা মেজর পর্ব হলাে নয়টি (৯), যেখানে আটটি (৮) অমেরুদণ্ডী এবং একটি মেরুদণ্ডী পর্ব। 

নন-কর্ডাটা প্রাণীর প্রধান পর্বগুলাে কি কি ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা 

নন-কর্ডাটা প্রাণীর প্রধান পর্বগুলাে কি কি ও বৈশিষ্ঠ্য ব্যাখ্যা  আলােচনা করা হলাে।


পর্ব (১) Porifera (পরিফেরা) :  Porifera (পরিফেরা) পর্ব এর বৈশিষ্ট্য

Porifera : Latin porus = ছিদ্র + ferre = বহন করা। প্রাণী বিবর্তনের প্রথম ধাপ হিসেবে এ পর্বের প্রাণিদের চিহ্নিত করা হয়। দেহে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় এদের ছিদ্রাল প্রাণীও বলা হয়। এই পর্বের সদস্যদেরকে সাধারণভাবে স্পঞ্জ (Sponge) নামে অভিহিত করা হয়। ১৮৩৬ সালে Grant সর্বপ্রথম এই পর্বটির নামকরণ করেন। এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের অধিক প্রজাতির সন্ধান পওয়া গেছে। এদের কিছু প্রজাতি মিঠাপানির, অন্যরা সকলেই সামুদ্রিক। এই পর্বের প্রাণীরা পানির তলদেশে বা ভাসমান কোন বস্তুর সাথে সংলগ্ন থাকে। 

Porifera (পরিফেরা) পর্ব এর বৈশিষ্ট্যঃ 

  • এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত। এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
  • এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া (Ostia) নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
  • এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটে। 
  • এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে এরা চলতে পারে না।
  • এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয় । 
  • এদের অন্তঃকঙ্কাল স্পিকিউল (Spicule) বা ফাইব্রাস নামক প্রােটিনে তৈরি স্পঞ্জিন (Spongin) সমন্বয়ে গঠিত।
পর্ব (১) Porifera (পরিফেরা) :  Porifera (পরিফেরা) পর্ব এর বৈশিষ্ট্য
Porifera (পরিফেরা) পর্ব এর বৈশিষ্ট্যঃ



পর্ব (২) Cnidaria (নিডারিয়া)  :  Cnidaria (নিডারিয়া)  পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য

১৮৪৭ সালে লিউকার্ট (Leuckart) সিলেন্টারেটা ইকাইনােডার্ম থেকে পৃথক করে একটি স্বতন্ত্র পর্বের মর্যাদা দেন। তবে লিউকার্টের সিলেন্টারেটায় স্পঞ্জ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর ১৮৮৮ সালে হ্যাশ্চেক (Hatschek) কর্তৃক লিউকার্টের সিলেন্টারেটা বিভক্ত হয়ে Cnidaria (Gr. knide = দংশক / কাঁটা + ল্যাটিন aria = সংযুক্ত) নামক পৃথক পর্ব হিসেবে মর্যাদা পায়। 

Cnidaria (নিডারিয়া)পর্ব এর বৈশিষ্ট্যঃ

  • সম্পূর্ণভাবে জলজ, অধিকাংশই সামুদ্রিক তবে কিছু মিঠাপানিতে পাওয়া যায়। 
  • মুখ ও পরাঙমুখ বরাবর অনুদৈর্ঘ্য অক্ষকে ঘিরে অরীয় প্রতিসম।
  • এদের অনেক প্রজাতি বহুরূপীতা পরিদর্শন করে । 
  • বহুরূপী সদস্যদের মৌলিক একক পলিপ এবং মেডুসা।
  • দেহ প্রাচীর দ্বিস্তরী।
  • দেহাভ্যন্তরে সিলেন্টেরন নামক পরিপাক-সংবহন গহ্বর থাকে।
  • সাধারণত সিলিয়াযুক্ত মুক্ত সন্তরণক্ষম প্লানুলা লার্ভার মাধ্যমে পরিস্ফুটন ঘটে।

পর্ব (১) Cnidaria (নিডারিয়া)  :  Cnidaria (নিডারিয়া)  পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীসমূহ


উদাহরণ ঃ Aurelia aurita (জেলিফিশ), Hydra vulgaris


পর্ব (৩) Platyhelminthes (প্লাটিহেলমিনথিস)  :  Platyhelminthes (প্লাটিহেলমিনথিস) পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য

গ্রিক শব্দ platys (= চ্যাপ্টা) এবং helminthes (= কৃমি) থেকে Platyhelminthes শব্দের উৎপত্তি। Gegenbaur, ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ফিতাকৃমির জন্য এ নামটি প্রস্তাব করেন। বর্তমানে Platyhelminthes পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে চ্যাপ্টাকৃমি নামে পরিচিত। 

Platyhelminthes (প্লাটিহেলমিনথিস) পর্ব এর বৈশিষ্ট্য ঃ 

  • দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পৃষ্ঠ- অঙ্কীয় তল বরাবর চ্যাপ্টা ।
  • এরা ট্রিপলােব্লাস্টিক অর্থাৎ তিনটি কোষীয় স্তরে বিন্যস্ত থাকে। 
  • সকল প্রাণী সিলােমবিহীন। 
  • পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ।
  • শিখা কোষ (flame cell) নামক প্রােটোনেফ্রিডিয়া সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত। 
  • অধিকাংশ উভলিঙ্গী।

পর্ব (৩) Platyhelminthes (প্লাটিহেলমিনথিস)  :  Platyhelminthes (প্লাটিহেলমিনথিস) পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য
প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণিসমূহ




পর্ব (৪) Nematoda (নেমাটোডা) : Nematoda (নেমাটোডা) পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য

Nematoda; Gr. nematos = thread (সুতা), এরা সমুদ্রে, মিঠাপানিতে, মেরু অঞ্চল, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চল, পাহাড়ের চূড়া থেকে গভীর সমুদ্র পর্যন্ত সর্বত্র বাস করে। নেমাটোড দ্বারা মানুষ আক্রান্ত হয়, অনেক সময় এদের দ্বারা গৃহপালিত পশুপাখি আক্রান্ত হয়। 


Nematoda (নেমাটোডা) পর্ব এর বৈশিষ্ট্য ঃ

দেহ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম; সত্যিকার খণ্ডায়ন অনুপস্থিত।
নলাকার দেহ, উভয় প্রান্ত ক্রমাগত সরু।
এরা গােলকৃমি (Ascaris lumbricoides) নামে পরিচিত।
দেহ গহ্বর অপ্রকৃত বা অ্যাডােসিল
বেশির ভাগ একলিঙ্গী, যৌন দ্বিরূপতা বর্তমান।
দেহ প্রচীরে শুধু অনুদৈর্ঘ্য পেশীতন্তু থাকে, গােলাকার পেশী থাকে না।
পৌষ্টিক নালী সম্পূর্ণ; একটি সােজা টিউবের একপ্রান্তে মুখ ও অন্যপ্রান্তে পায়ু থাকে।

পর্ব (৪) Nematoda (নেমাটোডা) : Nematoda (নেমাটোডা) পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য


উদাহরন: Loa loa (eye worm), Ascaris lumbricoides (round worm), Wuchereria bancrofti (filarial worm).



পর্ব (৫) Mollusca (মােলাস্কা) : Mollusca (মােলাস্কা)  পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য

Mollusca শব্দটি ল্যাটিন শব্দ molluscus হতে এসেছে যার অর্থ কোমল বা নরম (soft)। ক্যারােলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus) সর্বপ্রথম শব্দটি ব্যবহার করেন। মােলাস্কা পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণীদের মধ্যে- ঝিনুক, শামুক, অক্টোপাস, সেপিয়া, ললিগাে ইত্যাদি সুপরিচিত। এরা অমেরুদণ্ডী প্রাণী। একেবারে সরল জীব থেকে অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে অত্যন্ত জটিল এবং আকৃতিগতভাবে প্রায় আণুবীক্ষণিক থেকে দৈত্যাকার স্কুইড এ দলের অন্তর্ভুক্ত। এ পর্বের প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ৮৫,০০০; এর মধ্যে জীবিত প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৩৫,০০০। 

 Mollusca (মােলাস্কা ) পর্বর বৈশিষ্ট্য ঃ 

  • জলজ প্রাণী; অধিকাংশ প্রাণীই সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে ও কিছু সংখ্যক স্বাদু পানিতে বাস করে; কিছু স্থলজ ও গর্তাশ্রয়ী। 
  • দেহ নরম, মাংসল, অখণ্ডায়িত ও ত্রিস্তরী; দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম। 
  • ম্যান্টল নামক পাতলা আবরণ দ্বারা দেহ আবৃত। ম্যান্টল কর্তৃক খােলক গঠিত হয়।
  • দেহগহ্বর খুব সংক্ষিপ্ত ও হিমােসিলে পরিণত হয়েছে। 
  • দেহের অঙ্কীয়দেশে মােটা চামড়া প্রশস্ত মাংসল পিণ্ডে বা পদে রূপান্তরিত হয়। 
  • মুখবিবরে কাইটিন নির্মিত একটি রেতি-জিহ্বা বা র্যাডুলা থাকে যা অন্য কোন প্রাণীতে পাওয়া যায় না। ফুলকা অথবা ফুসফুস অথবা উভয় অংশ অথবা ম্যান্টল দ্বারা শ্বসন সম্পন্ন হয়।
  • সাধারণত একলিঙ্গী কিন্তু কিছু সংখ্যক উভলিঙ্গী। 
  • বহিঃনিষেক অথবা অন্তঃনিষেক ঘটে। 
  • এদের অর্ধমুক্ত সংবহনতন্ত্র দেখা যায়। 
  • হৃদপিণ্ড পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত।
পর্ব (৫) Mollusca (মােলাস্কা) : Mollusca (মােলাস্কা)  পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য
মােলাস্কা পর্বের প্রাণীসমূহ




উদাহরণ : Octopus macropus (অক্টোপাস), Pila globosa (আপেল শামুক), Lamellidens marginalis (ঝিনুক)।


পর্ব (৬) Annelida (অ্যানিলিডা) : Annelida (অ্যানিলিডা) পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য

১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী ল্যামার্ক (Lamarck) উন্নত খণ্ডায়িত প্রাণীদের অ্যানিলিডা (ল্যাটিন, annulus/annelus = little ring ছােট আংটি + eidos = form রূপ) নামে চিহ্নিত করেন।

Annelida (অ্যানিলিডা) পর্ব বৈশিষ্ট্য ঃ

  • দেহ লম্বা নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পরপর রৈখিকভাবে সজ্জিত। 
  • দেহে প্রকৃত সিলােম বিদ্যমান, দেহত্বক কাইটিনবিহীন পাতলা ও নমনীয় কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
  • সিটা বা প্যারাপােডিয়া চলনে সাহায্য করে।
  • নেফ্রিডিয়ার মাধ্যমে রেচন ঘটে, রেচনাঙ্গ খণ্ডে খণ্ডে সজ্জিত থাকে। 
  • পৌষ্টিকনালী নলাকার ও সম্পূর্ণ (মুখ পায়ু ছিদ্র সমন্বিত)। 
  • রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির, রক্তের বর্ণ লাল।।
  • পরােক্ষ পরিস্ফুটনের ক্ষেত্রে মুক্ত সন্তরণক্ষম ট্রোকোফোর নামক লার্ভার বিকাশ ঘটে। 
  • উভলিঙ্গ সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ পরিস্ফুটন ঘটে। 
  • আবার কিছু ক্ষেত্রে অযৌন জনন ঘটে থাকে।

পর্ব (৬) Annelida (অ্যানিলিডা) : Annelida (অ্যানিলিডা) পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য
অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীসমূহ


উদাহরণ: Hirudo medicinalis (6717), Metaphire Posthuma


পর্ব (৭) Arthropoda (আথ্রোপােডা)  : Arthropoda (আথ্রোপােডা) পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য

আথ্রোপােডা (গ্রিক, arthron = joint, সন্ধি + pous, podos = foot, পা) পর্বটি প্রাণিজগতে সর্ব বৃহৎ পর্ব। এদের পা দেখলেই বােঝা যায় যে, কয়েকটি ভিন্ন অংশ যুক্ত হয়ে এটি গঠিত হয়েছে, তাই এদের সন্ধিপদী নাম করা হয়েছে। এরা পাহাড়, পর্বত, সমুদ্রের তলদেশ, মরুভূমির বালুকাময় স্থানসহ সর্বত্র বাস করে।

Arthropoda (আথ্রোপােডা) পর্ব বৈশিষ্ট্য ঃ 

  • সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বর্তমান। প্রতিটি খণ্ডে সাধারণত একজোড়া উপাঙ্গ থাকে।
  • দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, ত্রিস্তরী, খণ্ডায়িত দেহ। 
  • উন্মুক্ত সংবহনতন্ত্র যা পৃষ্ঠীয় সংকোচনশীল হৃদপিণ্ড, ধমনীসমূহ এবং হিমােসিল নিয়ে গঠিত। 
  • দেহ প্রাচীর ফুলকা, ট্রাকিয়া বা পুস্তক ফুসফুস দ্বারা শ্বাসকার্য সম্পাদিত হয়। 
  • কক্সাল, এন্টেনাল, ম্যালপিজিয়ান নালিকা দ্বারা রেচন সম্পাদিত হয়। 
  • স্ত্রী-পুরুষ আলাদা সাধারণত অন্তঃনিষেক সম্পন্ন হয় এবং প্রায় ক্ষেত্রেই মেটামরফোসিস বিদ্যমান।
  • পৌষ্টিকতন্ত্র সম্পূর্ণ, উপাঙ্গ পরিবর্তিত হয়ে মুখােপাঙ্গ গঠিত যা বিভিন্ন প্রকার খাদ্য গ্রহণের জন্য অভিযােজিত।
পর্ব (৭) Arthropoda (আথ্রোপােডা)  : Arthropoda (আথ্রোপােডা) পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য
আথ্রোপােডা পর্বের প্রাণীসমূহ


উদাহরণ : Periplaneta americana (আরশােলা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Carcinus maenas (কাঁকড়া)।

পর্ব (৮) Echinodermata (ইকাইনােডার্মাটা)


পর্ব (৮) Echinodermata (ইকাইনােডার্মাটা) : Echinodermata (ইকাইনােডার্মাটা) পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য

ইকানােডার্মাটা শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত (গ্রিক, echino = spin, কণ্টকাবৃত এবং derma = skin, ত্বক)। Jacob Klein (১৭৩৪) সর্বপ্রথম কণ্টকাবৃত প্রাণীদের ইকাইনােডার্মাটা নামকরন করেন। এ পর্বভুক্ত প্রায় সমস্ত প্রাণীদের দেহত্বক কর্কশ, কণ্টক দ্বারা আচ্ছাদিত এবং দেহত্বকের নিচে অবস্থিত চূর্ণময় পাত থেকে অসংখ্য কণ্টকাকার অভিক্ষেপ সৃষ্টি হয়।

 Echinodermata (ইকাইনােডার্মাটা) পর্বর বৈশিষ্ট্যঃ

  • অরীয় প্রতিসম, পূর্ণাঙ্গ প্রাণী সাধারণত পঞ্চ অরীয়ভাবে এবং লার্ভা দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম। 
  • দেহত্বক ত্রিস্তরী, দেহগহ্বরযুক্ত, প্রকৃত মস্তক, মস্তিষ্ক ও খণ্ডকবিহীন; তবে স্পষ্ট মৌখিক ও পরাঙ্গমুখ তল দেখা যায়।
  • পানি সংবহনতন্ত্র সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য, পানি সংবহন নালি তরল দ্রব্য দিয়ে পূর্ণ থাকে
  • সংবহনতন্ত্র বর্তমান, স্নায়ুতন্ত্র ও জ্ঞানেন্দ্রিয় অত্যন্ত অনুন্নত ধরনের।
  • সম্পূর্ণরূপে সামুদ্রিক, সমুদ্রের বিভিন্ন গভীরতায় বাস করে, স্বাধীনজীবী, মুক্ত সঞ্চারণশীল।
  • রেচনতন্ত্র অনুপস্থিত, লিঙ্গ সাধারণত পৃথক কিন্তু সঙ্গম হয় না, জনন পদার্থ বাইরে নিক্ষিপ্ত হয় ও পানিতে নিষিক্তকরণ ঘটে। 
  • পরােক্ষভাবে বৃদ্ধিকালে লার্ভা দশা দেখা যায়, লার্ভা সর্বদাই দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, মুক্ত সাতারু (কতক প্রজাতিতে বৃদ্ধি সরাসরি)।
পর্ব (৮) Echinodermata (ইকাইনােডার্মাটা) : Echinodermata (ইকাইনােডার্মাটা) পর্ব এর ব্যাখ্যা ও বৈশিষ্ট্য

উদাহরণ: Echinus esculentus Cucumaria frondosa


নন-কর্ডাটা প্রাণীর প্রধান পর্বসমূহ সারসংক্ষেপ

নন-কার্ডাটা পর্বের প্রাণীর প্রধান পর্বগুলাে হলাে: পরিফেরা, নিডারিয়া, প্লাটিহেলমিনথিস, নেমাটোডা, মােলাস্কা, অ্যানিলিডা, আথ্রোপােডা, ইকাইনােডার্মাটা।

নন-কর্ডাটা প্রাণীর প্রধান পর্বসমূহ এর আলোকে বহু নির্বাচনি প্রশ্ন

১। নিচের কোন পর্বের প্রাণীদের লার্ভা দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসম
ক. Echinodermata
খ. Mollusca 
গ Annelida
ঘ. Porifera 

২। অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীসমূহ
i. Neanthes virens 
ii. Hirudo medicinalis
iii. Apis indica 

নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii 


৩। প্রােটোনেফ্রিডিয়া সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত নিচের কোন প্রাণীর? 

ক. Taenia solium
খ. Loa loa 
খ Pila globosa
ঘ. Echinus esculentus

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.