Type Here to Get Search Results !

কর্ডাটা পর্বের প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস ও প্রকারভেদ নিয়ে বিস্তারিত বর্নণা

কর্ডাটা পর্বের প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস

Latin শব্দ chorda= রঞ্জু + ata= বহন করা থেকে Chordata শব্দের উদ্ভব। মানুষের কাছে Chordata পর্বের প্রাণিই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এরা পৃথিবীর সব পরিবেশে বাস করে। যে সব প্রাণিদের জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে পৃষ্ঠ মধ্যরেখা বরাবর দণ্ডাকার ও স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড থাকে তাদের কর্ডাটা বলে। নটোকর্ডের ঠিক উপরে পৃষ্ঠীয় ফাপা, নলাকার স্নায়ুরজ্জ্ব থাকে। জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে গলবিলের দুই পাশে কয়েক জোড়া ফুলকার থাকে। এদের হৃদপিণ্ড অঙ্কীয়দেশে অবস্থান করে এবং এদের দেহ সাধারণত দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসম।

কর্ডাটা পর্বের বিভিন্ন উপপর্ব (Sub phylum) এবং শ্রেণি (Class) এর বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ

নিম্নে কর্ডাটা পর্বের বিভিন্ন উপপর্ব (Sub phylum) এবং শ্রেণি (Class) এর বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ আলােচনা করা হলাে

উপপর্ব-১: Urochordata (ইউরােকর্ডাটা; গ্রীক, oura= লেজ + Chorda= রঞ্জু)

এ উপপর্বে প্রায় ২৮০৪টি প্রজাতি রয়েছে। পৃথিবীর সব সমুদ্র উপকূলে অগভীর পানিতে এদের পাওয়া যায়। এরা সমুদ্রে এককভাবে বা কলােনি গঠন কওে বাস করে। এদেরকে সাগর বা সামুদ্রিক ফোয়ারা (Sea squirt) নামে ডাকা হয়।

Urochordata (ইউরােকর্ডাটা) উপপর্বর বৈশিষ্ট্য

১। পরিণত প্রাণীতে নটোকর্ড থাকে না। কিন্তু লার্ভা দশায় কেবল লেজে নটোকর্ড থাকে।
 
২। পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর দেহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিউনিসিন পদার্থে নির্মিত টিউনিক দ্বারা আবৃত থাকে।
 
৩। উভলিঙ্গিক জীবনচক্রে ট্যাডপােল (Tadpole) নামক লার্ভা দশা বিদ্যমান। 

৪। পরিণত প্রাণী নিশ্চল কিন্তু লার্ভা মুক্ত সন্তরণশীল। 

Urochordata উপপর্ব এর প্রকারভেদ 

উপপর্ব Urochordata কে তিনটি শ্রেণিতে (Class) ভাগ করা হয়েছে। যথাশ্রেণি-

১: Ascidiaceae 

বৈশিষ্ট্য
১। এ শ্রেণিভুক্ত প্রাণীদের দেহ নলাকার বা স্ফীতকায়। 

২। পূর্ণাঙ্গ প্রাণী নিশ্চল। টিউনিক দ্বারা আবৃত । 

৩। পরিণত প্রাণীতে লেজ থাকে না। 

উদাহরণ- Ascidia mentula 

শ্রেণি-২: Thaliaceae 

বৈশিষ্ট্য। 

১। এ শ্রেণিভুক্ত সদস্যরা দেখতে পিপাকৃতির (barrel shaped)। 

২। পূর্ণাঙ্গ প্রাণী লেজবিহীন। জীবন চক্রে জনঃক্রম ঘটে। 

৩। দেহ প্রাচীরের পেশি সংকোচনের মাধ্যমে পানি প্রবাহের সৃষ্টি হয়। উদাহরণ- Salpa maxima 


শ্রেণি-৩: Larvaceae 
বৈশিষ্ট্য
১। এরা ক্ষুদ্রাকায় ব্যাঙাচি আকৃতির। 

২। এদের দেহাবরণ সাময়িক, জিলােটিনের মত ও স্বচ্ছ। 

৩। পরিণত প্রাণিতে লেজ থাকে। উদাহরণ- Oikapleura albicans


উপপর্ব-২: Cephalochordata (গ্রীক শব্দ Kephale= মাথা + chorda= রঞ্জু )-

পৃথিবীর সব উপকূলীয় পানির বালুময় তলদেশে এ উপপর্বের প্রাণীরা বাস করে। পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত ৩৩ প্রজাতির সেফালােকর্ডেট শনাক্ত করা হয়েছে। 

Cephalochordata এর বৈশিষ্ট্য

১। দেহ লম্বাটে, পার্শ্বীয়ভাবে চাপা (laterally compressed), স্বচ্ছ, উভয় প্রান্ত সরু।

২। দেহের অগ্রভাগে অঙ্কীয়ভাবে ওরাল হুড (oral hood) এবং তাতে ওরাল সিরি (oral cirri) থাকে। 

৩। গলবিলে অসংখ্য ফুলকার উপস্থিত, ফুলকাগুলাে অ্যাট্রিয়ামে উন্মুক্ত। 

৪। দেহের অঙ্কীয়দেশে পায়ুছিদ্র ব্যতীত আরাে একটি ছিদ্র থাকে, একে এট্রিওপাের (atriopore) বলে। 

৫। দেহের দু'পাশে ‘>' আকারের মায়ােটোম পেশি পরপর সজ্জিত।


উপপর্ব-৩: Vertebrata (ল্যাটিন vertebratus= মেরুদণ্ড) 

কর্ডাটা পর্বের যে সকল প্রাণীর জ্বণীয় নটোকর্ড পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তরুণাস্থি অথবা অস্থি গঠিত মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, তারা Vertebrata উপপর্বের প্রাণি। অস্থিময় বা তরণাস্থিময় ক্রেনিয়াম (cranium) এর ভিতর মস্তিষ্ক অবস্থান করে বলে এর অপর নাম Cranita। এদেও প্রজাতির সংখ্যা ৬৫,৭৮৯টি।

Vertebrata পর্বের  বৈশিষ্ট্য

১। নটোকর্ড অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় কশােরুকাবিশিষ্ট মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত। 

২। পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজু মস্তিষ্ক ও সুষুম্মাকাণ্ড গঠন করে। 

৩। রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের। 

৪। মেসােডার্মাল বৃক্ক (kidney) প্রধান রেচন অঙ্গ। 

৫। পার্শ্বীয় জোড়া উপাঙ্গ (পাখনা বা পদ) চলন অঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 


Vertebrata  উপপর্ব এর প্রকারভেদ

উপপর্ব Vertebrata কে চোয়ালের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে দুটি অধিশ্রেণি (Super class) এ বিভক্ত করা হয়েছে। যথা

অধিশ্রেণি-  ১: Agnatha (গ্রীক a= ব্যতীত + gnathos= চোয়াল)- 

দেহে প্রকৃত চোয়াল ও জোড় উপাঙ্গ অনুপস্থিত। এর অধীনে দুটি শ্রেণী (class) রয়েছে। যথাশ্রেণি-১: Myxini- এরা এক প্রকার চোয়ালহীন মাছ। এরা সামুদ্রিক। এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত মাছগুলাে সাধারণত হ্যাগফিশ (hag-fish) নামে পরিচিত। এদের প্রজাতির সংখ্যা ৭৬। হ্যাগফিশ দেখতে বাইন মাছের (eel-fish) মতাে। 

Agnatha বৈশিষ্ট্য
১। দেহ নলাকার, আঁইশবিহীন, পিচ্ছিল গ্রন্থিযুক্ত ত্বকে আবৃত। কিন্তু পৃষ্ঠীয় পাখনাবিহীন। 

২। গলবিলে ৫ থেকে ১৫ জোড়া ফুলকার থাকে। 

৩। হ্যাগফিশের নাসিকা-থলি মুখবিবরে উন্মুক্ত। 

৪। লার্ভা দশা অনুপস্থিত। উদাহরণ- Myxine glutinosa

শ্রেণি-২: Cephalaspidomorphi- 
এরা সাধারণত ল্যামপ্রে (lamprey) নামে পরিচিত। এরা সামুদ্রিক কিন্তু ডিম পাড়ার সময় মিঠাপানিতে চলে যায়। ডিম ফুটে অ্যামােসিট লার্ভা রূপান্তর শেষে সমুদ্রে ফিরে যায়। এদের প্রজাতির সংখ্যা ৪৩। 

Cephalaspidomorphi- বৈশিষ্ট্য

১। দেহ সরু-নলাকার, জোড়া পাখনাবিহীন, আঁইশবিহীন। 

২। সাত জোড়া ফুলকাছিদ্র রয়েছে।

৩। মেরুদণ্ডে নটোকর্ড ও নিউরাল টিউব থাকে। 

৪। লার্ভা দশায় গলবিলে এণ্ডোস্টাইল বিদ্যমান থাকে।


অধিশ্রেণি-২: Gnathostomata

এ অধিশ্রেণির প্রাণীদের প্রকৃত চোয়াল ও সাধারণত জোড়া উপাঙ্গ উপস্থিত। বিভিন্ন ধরনের মেরুদণ্ডী প্রাণীর সমাবেশ ঘটেছে এ অধিশ্রেণিতে। এসব প্রাণীকে সাতটি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যথাশ্রেণি-

১: Chondrichthyes (গ্রীক chondros= তরুণাস্থি, ichthys=মাছ) - 
এটি Gnathostomata-র প্রথম শ্রেণি। এরা সামুদ্রিক ও শিকারি হয়ে থাকে। এ শ্রেণিতে প্রায় ১২০৭ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। 

বৈশিষ্ট্য

১। অন্তঃকঙ্কাল সম্পূর্ণভাবে তরুণাস্থিময়। 

২। দেহ অসংখ্য প্লাকয়েড (placoid scale) আঁইশ দ্বারা আবৃত। 

৩। মাথার দুই পাশে ৫ থেকে ৭ জোড়া ফুলকা ছিদ্র উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে, কানকো (operculum) অনুপস্থিত। 

৪। বায়ুথলি (air bladder) থাকে না, লেজ হেটারােসার্কাল (heterocercal) ধরনের। অর্থাৎ পুচ্ছ পাখনার অংশ দুটি অসমান। 

শ্রেণি-২: Actinopterygii (গ্রীক actis = রশ্মি ray এবং pteryx = পাখনা)-

 এ শ্রেণির অন্তর্গত মাছ আমাদের দেশে বেশ পরিচিত। এর প্রজাতির সংখ্যা ৩০৬২৪। 

বৈশিষ্ট্য

১। অন্তঃকঙ্কাল অস্থি নির্মিত। 

২। দেহ অসংখ্য সাইক্লয়েড অথবা টিনয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত । 

৩। মাথার দুই পাশে জোড়া ফুলকা, কানকুয়া উপস্থিত। 

৪। বায়ুথলি (air bladder) উপস্থিত। উদাহরণ- Catla catla


শ্রেণি-৩: Sarcopterygii (গ্রীক Sarkas= মাংসল+pteryx= পাখনা)- 

এ শ্রেণির অন্তর্গত অধিকাংশ মাছ বিলুপ্তি হয়ে গেছে। এর প্রজাতির সংখ্যা ৮।

শ্রেণি-৬ : Aves (ল্যাটিন avis= পাখি)- 

এ শ্রেণিভুক্ত প্রাণিদের পাখি বলা হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে ১০ হাজারের বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে।

বৈশিষ্ট্য

১। দেহ পালক (feather) দ্বারা আবৃত। 

২। উড্ডয়ন অঙ্গ হিসেবে অগ্রপদ দুটি ডানায় (wing) রূপান্তরিত হয়েছে। 

৩। পরিপাকতন্ত্রে থলি আকার ক্রপ (crop) এবং পেশিময় গিজার্ড (gizard) বিদ্যমান। 

৪। হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণরূপে চার প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। যথা- দুটি অ্যাট্রিয়া ও দুটি ভেন্ট্রিক। উদাহরণ- Copsychus saularis


শ্রেণি-৭ : Mammalia (ল্যাটিন mammae = স্তন)

বিবর্তনের দিক থেকে Mammalia সবচেয়ে আধুনিক প্রাণি। বর্তমানে প্রায় ৬০০০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী রয়েছে। মানুষও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত প্রাণি। 

বৈশিষ্ট্য

১। দেহ এপিডার্মাল লােম দ্বারা আবৃত থাকে। 

২। পরিণত স্ত্রী প্রাণীর কার্যকরী স্তন গ্রন্থি (mammary gland) থেকে ক্ষরিত মাতৃদুগ্ধে নবজাতক লালিত হয়। 

৩। বহিঃকর্ণে পিনা (Pinna) ও মধ্য কর্ণে তিনটি ক্ষুদ্রান্থি থাকে। 

৪। হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। উদাহরণ- Panthera tigris


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.