Type Here to Get Search Results !

প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি, নীতি ও কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত

হাই বন্ধরা আমারা এই পোস্টের মাধ্যমে প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি ও নীতি ও কারন সম্পকে বিস্তারিত ভাবে জানার চেষ্টা করব। এই ‍আরটিকেরলে শ্রেণিকরণ কাকে বলে, শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি সমূহ কি কি, শ্রেণিবিন্যাসের প্রধান কয়েকটি ভিত্তি ছবি সহ আলোচনা করা হয়েছে। 

প্রাণিজগতের শ্রেণিকরণের ভিত্তি (Base of animal classification) ঃ 

শ্রেণিকরণ কাকে বলে? 

যেকোনাে প্রাণী সম্পর্কে সম্যক ধারণা  লাভ করতে হলে সর্বপ্রথম প্রয়ােজন তার শনাক্তকরণ। আর এ কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার অন্যতম মাধ্যম হলাে শ্রেণিকরণ (classification)। 

প্রাণিবিজ্ঞান চর্চার শুরু থেকেই অনেক বিজ্ঞানী প্রাণিদের শ্রেণিবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। তারমধ্যে অন্যতম ছিলেন সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারােলাস লিনিয়াস (১৭০৭-১৭৭৮)। এজন্য তাকে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক (Father of taxonomy) বলা হয়। 

শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি কি?

যে সকল বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে সাধারণত শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাদেরকে শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি বলে। 

শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি সমূহ কি কি: 


শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি সমূহ।

১। দেহের আকার-আকৃতি, 
২। কোষের সংখ্যা, গঠন ও প্রকৃতি, 
৩। জ্বণীয়স্তর, 
৪। নটোকর্ড, 
৫। মেরুদণ্ড, 
৬। প্রতিসাম্য, 
৭। সিলােম, 
৮। খণ্ডকায়ন, 
৯। অঞ্চলায়ন, 
১০। প্রান্তিকতা। 

শ্রেণিবিন্যাসের প্রধান কয়েকটি ভিত্তি সম্পর্কে বিস্তারিক আলেচনা

নিম্নে প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসের প্রধান কয়েকটি ভিত্তি সম্পর্কে আলােচনা করা হলাে

১। আকারের ভিত্তিতে

দেহের আকারের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা

ক. মাইক্রো বা আণুবীক্ষণিক প্রাণী

যে সকল প্রাণী আকারে ছােট, খালি চোখে যাদেরকে দেখা যায় না তাদেরকে মাইক্রো বা আণুবীক্ষণিক প্রাণী বলে। যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।) 

খ. ম্যাক্রো বা বৃহত্তর প্রাণী

যে সকল প্রাণী আকারে বড়, খালি চোখে যাদেরকে দেখা যায় তাদেরকে ম্যাক্রো বা বৃহত্তর প্রাণী বলে। যেমন- হাতি (Elephas maximus)। 

২। কোষের ভিত্তিতে

কোষের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা

ক. এককোষী প্রাণী

যে সকল প্রাণীর দেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত তাদেরকে এককোষী প্রাণী বলে।  যেমন Sürat (Entamoeba histolytica) 

খ. বহুকোষী প্রাণী

যে সকল প্রাণীর দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে বহুকোষী প্রাণী বলে। যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris) 

৩। জ্বণীয় স্তর- জ্বণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে 

প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা

ক. একস্তরী- এরা সরল ধরনের প্রাণী

এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum) 

খ. দ্বিস্তরী

যে সকল প্রাণীর জ্বণের কোষগুলাে বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানাে থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ. ত্রিস্তরী

যে সকল প্রাণীর ভূণের কোষগুলাে বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানাে থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী

যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus) 

৪। নটোকর্ড

নটোকর্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা

ক. নন-কর্ডাটা- 

যে সকল প্রাণীর নটোকর্ড নেই তাদেরকে নন-কর্ডাটা বলে। যেমন- তেলাপােকা (Periplaneta americana)

খ. কর্ডাটা- 

যে সকল প্রাণীর সারাজীবন অথবা শুধুমাত্র জ্বণীয় দশায় নটোকর্ড বিদ্যমান তাদেরকে কর্ডাটা বলে। যেমনspog T15 (Labeo rohita)

৫। মেরুদণ্ড 

মেরুদণ্ডের উপস্থিতিতে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা

ক. মেরুদণ্ডহীন প্রাণী

যে সকল প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই তাদেরকে মেরদণ্ডহীন প্রাণী বলে। যেমন- রেশম পােকা (Bombyx mori)

খ. মেরুদণ্ডী প্রাণী

যে সকল প্রাণীর মেরুদণ্ড রয়েছে তাদেরকে মেরদণ্ডী প্রাণী বলে। যেমন- গরু (Boss indica)। 

৬। প্রতিসাম্য

যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনাে না কোনাে অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা

ক. গােলীয় প্রতিসাম্য

যখন কোনাে প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলাের বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনাে তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গােলীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অরীয় প্রতিসাম্য

যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য

কোনাে প্রাণিদেহে যখন কোনাে অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যান্থােজোয়া (Anthozoa)। 

ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য

জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। অপ্রতিসাম্য দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য অরীয় প্রতিসাম্য সার্বিক প্রতিসাম্য দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য (অ্যামিবা) 

প্রাণিজগতের শ্রেণিকরণের ভিত্তি


ঙ. অপ্রতিসাম্য

যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

৭। সিলােমের ভিত্তিতে

 সিলােম হলাে তরল পদার্থে পূর্ণ এক ধরনের দেহ গহবর যা মেসােডার্ম থেকে উদ্ভূত এবং পেরিটোনিয়াম নামক মেসােডার্মাল কোষস্তরে আবৃত। সিলােমের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা

ক. সিলােমবিহীন প্রাণী

যে সকল প্রাণীর দেহে সিলােম অনুপস্থিত তাদেরকে সিলােমবিহীন বা অ্যাসিলােমেট প্রাণী বলে। যেমন- ফিতাকৃমি (Taenia solium, Fasciola hepatica)। 

খ. অপ্রকৃত সিলােমযুক্ত প্রাণী

যে সকল প্রাণীর দেহ গহবর মেসােডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত না থেকে পেশিস্তর দ্বারা আবৃত থাকে তাদেরকে অপ্রকৃত সিলােমযুক্ত বা স্নডােসিলােম বলে। যেমন- গােলকৃমি (Ascaris lumbricoides)। 

গ. প্রকৃত সিলােম যুক্ত প্রাণী

এদের দেহ গহ্বর মেসােডার্মাল পেরিটোনিয়াম আবরণী দিয়ে আবৃত থাকে। যেমন- রেশম পােকা (Bombyx mori)।



প্রাণিজগতের শ্রেণিকরণের ভিত্তি


৮। খণ্ডকায়ন

যখন কোনাে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম প্রাণিদেহ অনুদৈর্ঘ্য বরাবর সজ্জিত অনেকগুলাে একই ধরনের খণ্ডক নিয়ে গঠিত হয় তখন এ অবস্থাকে খণ্ডকায়ন বলে। প্রতিটি দেহখণ্ডক বা অংশকে segment বা somite বা metamere বলে। 

৯। অঞ্চলায়ন

প্রাণিদেহ বড় কয়েকটি অংশে বিভাজিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে অঞ্চলায়ন বলে। Arthropoda পর্বের প্রাণিদের ক্ষেত্রে অঞ্চলায়ন সুস্পষ্ট হয়। যেমন- দেহের তিনটি অংশ মাথা, বক্ষ ও উদরের প্রত্যেকটি অঞ্চলকে tagmata এবং একত্রে tagma বলা হয়। ১০। প্রান্তিকতা- মস্তক ও মুখের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে যে মেরুকরণ করা হয় তাকে প্রান্তিকতা বলে। প্রাণীর দেহ পর্যবেক্ষণ ও বর্ণনার সুবিধার্থে দেহকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- সম্মুখ প্রান্ত, পশ্চাৎ প্রান্ত, পৃষ্ঠদেশ, অঙ্কীয়দেশ বা বক্ষদেশ এবং পার্শ্বদেশ।

সারসংক্ষেপ 

সুবিশাল এই প্রাণিজগতের প্রত্যেকটি প্রাণী সম্পর্কে আলাদা আলাদা ভাবে জানা অসম্ভব। কিন্তু শ্রেণিবিন্যাসকরণের মাধ্যমে প্রাণীদের বিভিন্ন তথ্য সম্বন্ধে অল্প সময়ে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সহজে জানা যায়। যে সকল বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে সাধারণত শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাদেরকে শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি বলে। এগুলাে হলাে- ১। দেহের আকারআকৃতি, ২। কোষের সংখ্যা, গঠন ও প্রকৃতি, ৩। জ্বণীয়স্তর, ৪। নটোকর্ড, ৫। মেরুদণ্ড, ৬। প্রতিসাম্য, ৭। সিলােম, ৮। খণ্ডকায়ন, ৯। অঞ্চলায়ন, ১০। প্রান্তিকতা।




Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.