Type Here to Get Search Results !

কালাজ্বর কি, লক্ষণ, ধরন, রক্ত পরিক্ষা, চিকিৎসা, ওষধ, পথ্য ও ব্যবস্থা

কালাজ্বর কি, কালাজ্বর এর লক্ষণ, কালাজ্বর এর ধরন, কালাজ্বর রক্ত পরিক্ষা, কালাজ্বর চিকিৎসা, ওষধ, পথ্য ও ব্যবস্থা নিয়ে জানব।

কালাজ্বর কি, লক্ষণ, ধরন, রক্ত পরিক্ষা, চিকিৎসা, ওষধ, পথ্য ও ব্যবস্থা
কালাজ্বর কি, লক্ষণ, ধরন, রক্ত পরিক্ষা, চিকিৎসা, ওষধ, পথ্য ও ব্যবস্থা

কালা + জ্বর=কালাজ্বর। এই রােগে শরীরের রং কালাে হইয়া যায় বলিয়া উহাকে কালাজ্বর বলে। কালাজ্বরের জীবাণু কিভাবে মানবদেহে প্রবেশ করে, উহার সঠিক তওঁ এখনও আবিষ্কৃত হয় নাই। লেইসম্যান ও ডানােভ্যান নামক প্যারাসাইট দ্বারা কালাজ্বরের সৃষ্টি। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে সচরাচর কালাজ্বরের প্রাদূতাব বেশী। স্যাফাহ নামক এক প্রকার মাছির দ্বারা এই রােগ বিস্তার লাভ করে। আজ থেকে ৪০/৫০ বছর পূর্বে ব্যাপকহারে বাংলাদেশে কালাজ্বর ছিল। বর্তমানে আমাদের। দেশে এই রােগের প্রকোপনাই বলিলেই চলে।

অনেকের মতে স্যাণ্ডফাই মাছি এই রােগে আক্রান্ত রােগীর দেহ হইতে রক্ত চবিবার সময় রােগ জীবাণু বহন করিয়া সুস্থ মানবদেহে এ রােগ জীবাণু প্রবেশ করাহয়া দেয়। আবর্জনাযুক্ত স্থানে কিম্বা পচা নর্দমাযুক্ত স্থানে এই মাছি ডিম পাড়ে। বলিয়া সেই স্থানগুলিকে পরিষ্কার রাখিতে হয়।

কালাজ্বর এর লক্ষণ

১। কালাজ্বরে আক্রান্ত রােগীর প্রধান লক্ষণ হইল জ্বর, পরে দ্রুত প্লীহা ও যকৃত বৃদ্ধি পায়।
২। সকল সময় জ্বর, কিম্বা জ্বরের তাপমাত্রাও অধিক হয় না।
৩। জ্বর থাকা বা না থাকা উভয় অবস্থাতেই কেবল প্লীহা বৃদ্ধি পায়। তবে উহা খুব নরম থাকে--শক্ত হয় না।
৪। অল্প অল্প জ্বর হয় এবং উহা বহুদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
৫। দীর্ঘদিন ভুগিয়া রােগী নিতান্ত দুর্বল এবং রক্তহীন হয়। সর্দি, কাশি প্রভৃতি নানা উৎসর্গ দেখা দেয়, শরীরের চামড়া ধীরে ধীরে কালাে রং ধারণ করে, চুল পড়ে যায়।
৬। হাত দিয়ে পেট টিপিলে প্লীহা হাতে ঠেকে। তবে প্লীহাতে ব্যথা থাকে না।
৭। টাইফয়েডের মত জিহ্বা লেপাবৃত থাকে না। কয়েকদিন তাপ কম থাকিয়া। আবার বৃদ্ধি পায়।
৮। অনেক সময় কালাজ্বরে আক্রান্ত রােগীর দাঁতের গােড়া এবং নাক দিয়া রক্তক্ষরণ হইতে পারে।
৯। ক্ষুধা কমে না বরং দিনে বৃদ্ধি পায়। এইরূপ রাক্ষুসে ক্ষুধা বেশী দিন থাকে না। বেশী খাইলে পেটে বদহজম দেখা দিতে পারে।
১০। বুক ধড় পড় করে ও শ্বাসকষ্ট হয়। রােগী খুব দুর্বল হয়। ১১। চামড়া খসখসে হয়, পরে চামড়ায় ঘা দেখা দিতে পারে।
১২। ফুসফুস আক্রমণে রােগী বেশীর ভাগ মারা যায়। রােগ প্রথমে জটিল থাকে না। তবে জটিল রােগীর বাঁচার আশা নিতান্তই কম।
১৩। দিনে রাতে ২ বার জ্বর বৃদ্ধি এই রােগের লক্ষণ। 

কালাজ্বর দুই প্রকারঃ 

১) একিউট কালাজ্বর ও
২) ক্রোণিক কালাজ্বর।

১) একিউট (কঠিন) কালাজ্বরঃ 

একিউট কালাজ্বরে রােগীর দেহের তাপমাত্রা ১০১° হইতে ১০৩° ডিগ্রী পর্যন্ত হয়, কিন্তু একেবারে বিরাম হয় না। অল্প দিনের জ্বরে প্লীহা ২/৪ আঙ্গুল নামিয়া যায়। রােগীর বদহজম হয়। অন্যান্য জ্বরের ন্যায় এই জ্বরে আক্রান্ত রােগী তত বেশী ক্লান্ত হয় না।

২) ক্রোণিক (পুরাতন) কালাজ্বরঃ 

ক্রোণিক কালাজ্বরেও প্লীহা ও যকৃত বৃদ্ধি পায়। বদহজম সবসময় লাগিয়াই থাকে, তবে ক্ষুধা বেশী থাকে—খােরাক বাড়িয়া যায়। শরীরে খােস-পাঁচড়া জাতীয় রােগ দেখা যায়। মাথার চুল উঠিয়া যায় এবং শরীর বিশ্রী ও ফ্যাকাসে হয়।




কালা জ্বরের রক্ত পরিক্ষা

1. Aldehyde Test (এলডিহাইড টেষ্ট) 

প্রথমে রােগীর ভেইন (রগ) হইতে ৩ সি, সি, রক্ত বাহির করিয়া একটি টেষ্টটিউবে লইবেন। ২/৩ ঘন্টা পর রক্ত সিরাম হইতে পৃথক হইয়া যাইবে। সিরামটুকু পরিষ্কার অবস্থায় আলাদা টেষ্টটিউবে পৃথক করিয়া লইবেন। অতঃপর উহাতে শতকরা ৪০ ভাগ ফরমালডিহাইড (১ ফোটা) মিশাইয়া লইবেন। এখন ভালভাবে মিশ্রিত করিয়া রাখিয়া দিন। যদি অর্ধ ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধ ডিমের বাহিরের সাদা অংশের মত হয়, তবে উহাকে সবল পজিটিভ বলিবেন। কালাজ্বর আছে সন্দেহ নাই হিসাবে তিনটি (+++) যােগ চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ। করিবেন। জমাট হওয়া ও সিদ্ধডিমের বাহিরের অংশের মত সাদা হওয়া নিঃসন্দেহে কালাজ্বর প্রমাণ করে। সাধারণতঃ তিন মাস ভােগার পরে ইহা পজিটিভ হয়। পজিটিভ হইলে কালাজ্বর নাও হইতে পারে। সেক্ষেত্রে সিনার হাড় হইতে অথবা প্লীহা। হইতে রক্ত লইয়া পরীক্ষা করিতে হয়। অর্ধঘন্টার পরে ও দুই ঘন্টা সময়ের মধ্যে শর্ত দুইটি পূরণ হইলে (+) চিহ্ন দ্বারা দুর্বল পজিটিভ প্রকাশ করিবেন। ২৪ ঘন্টা পরেও যদি উক্ত শর্ত দুইট পূরণ না হয় তবে কালাজ্বর নহে বুঝিবেন।

২। Microscopical Examination (অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা)ঃ 

শ্বেতকণিকা (W.B.C) ও পলিমরফোসাইটের (Polymorphocyte)। ভাগ কমিয়া যায়। উহার স্বাভাবিক সংখ্যা ৫ হইতে ৭ হাজার কমিয়া দাঁড়ায় ১ হইতে ৩ হাজার। পলিমরফোসাইটের স্বাভাবিক সংখ্যা শতকরা ৫০ হইতে ৬৫কমিয়া দাঁড়ায় ২০ হইতে ৩০।
শ্বেতকণিকার সংখ্যা=২৫০০, পলিমরফোসাইট=৩০'/., লার্জমনােসাইট ৩৫, লিম্ফোসাইট=৩৪), ইওসিনােফিল=১/.।

রক্তের এই রিপাের্টের কাছাকাছি এবং এলডিহাইড টেষ্ট বা চোপরা টেষ্টের। রিপাের্ট মিলাইয়া কালাজ্বর নির্ণয় করা হয়।

কালাজ্বর এর চিকিৎসা

১। In-Suibatin (ষ্টিবাটিন)ঃ 

প্রথম দিন ১ সি, সি, লইয়া শুরু করিয়া প্রতিদিন সি, সি, করিয়া বাড়াইয়া মাংসে ইনজেকশন দিতে হইবে। রােগীর স্বাস্থ্য ও সহ্যের কথা বিবেচনা করিয়া ঔষধ বাড়াইয়া দৈনিক ৩ সি, সি, বা ৪ সি. সি. বা ৫ সি সি। মাত্রা লইয়া প্রত্যহইনজেকশন দিতে হইবে।

অল্প বয়স্কদের জন্যঃ 

২ (অর্থ) সি, সি, হইতে ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়াইয়া ইনজেশন দিতে হইবে। বর্ধিত মাত্রা ১ সি, সি, হইতে ৩ সি, সি, হিসাবে প্রত্যহ ইনজেকশন দিতে হইবে।

Reaction( রিয়্যাকশন)ঃ 

ষ্টিবাটিন ইনজেশন দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঔষধের রিয়্যাকশন অর্থাৎ বিষক্রিয়া দেখা দেয়। শরীর জ্বালা করা, পেটে ব্যথা হওয়া, শরীর। ঠাণ্ডা হওয়া, মাথা ঘােরা, অস্থিরতা বােধ করা ইত্যাদি বহুবিধ উপসর্গ ঔষধের বিষক্রিয়ার জন্য প্রকাশ পায়।

সর্তকতাঃ 

১) ষ্টিবাটিন ইনজেকশন দিবার পূর্বে মাঝে মাঝে রােগীর প্রস্রাব পরীক্ষা করা প্রয়ােজন। প্রস্রাবে এ্যালবুমিন থাকিলে ইনজেকশন দেওয়া আপাততঃ বন্ধ করিতে হইবে। প্রস্রাবের এ্যালবুমিন কমানাের জন্য এন্টিবাইয়ােটিক গ্রুপের যে কোন ঔষধ খাওয়াইতে হইবে ৭ দিন। পুনরায় প্রস্রাব পরীক্ষা করা প্রয়ােজন। এ্যালবুমিন না থাকিলে আবার ষ্টিবাটিন ইনজেকশন শুরু করিতে হইবে।

ষ্টিবাটিন ইনজেকশনে শরীরের চামড়ায় নীচে ইরাপসন দেখা দিতে পারে কিম্বা চক্ষু হলুদ বর্ণ হইতে পারে। তাই কালাজ্বরের ইনজেকশন বন্ধ রাখিয়া Glucose Solution (গ্লুকোজ সলিউশন) ২৫% ৫০ সি, সি, করিয়া প্রত্যহ একবার ভেইন। ইনজেকশন দিতে হইবে ও তৎসঙ্গে ভিটামিন গ্রুপের ঔষধ খাইতে দিতে হইবে।।

২। কালাজ্বরে আক্রান্ত রােগীর পেটের গণ্ডগােল থাকিলে হজমের জন্য Pancreatin (প্যানক্রিয়াটিন) যুক্ত যে কোন ঔষধ দেওয়া যায়ঃ

Cap-Ciplazyme(সিপলাজাইম) বা, Tab. Suzyme (সুজাইম) বা, Cap. Penzyme (পেনজাইম) বা, Cap. Pantin (প্যানটিন) বা, Tab. Festal-N (ফেষ্টাল-এন) বা, Tab. Zymet (জাইমেট) বা, Cap. D. Zyme (ডিজাইম) বা, Cap. Anzyme (এনজাইম) বা, Cap. Crezyme (ক্রিজাইম)।

মাত্রাঃ ১টি করিয়া দিনে ২/৩ বার আহারের পরে সেব্য। ৩৷ পাতলা পায়খানা বা আমাশয় দেখা দিলেঃ

আমাশয়ের জন্যঃ 

Metronidazol (মেট্রোনিডাজল) যুক্ত ঔধধঃ Tab. Metryl (মেট্রিল) বা, Tab. Metronid (মেট্রোনিড) বা, Tab. Filmet (ফিলমেট) বা, Tab. Metazol (মেটাজল) বা, Tab. Amobin (এ্যামােবিন) বা, Tab. Metronid (মেট্রোনিড) বা, Tab. Metsina (মেটসিনা) বা, Tab. Nipazol (নিপাজল) বা, Tab. Phidazol (ফিডাজল) বা, Tab. Nida (নিডা) বা, Tab. Protozol (প্রােটোজল) বা, Tab. Amotrex (এমােট্রেক্স) ।

সেবনবিধিঃ 

বয়স অনুসারে ১ বড়ি করিয়া প্রত্যহ তিন বার সেব্য।

অথবা, 


৪। পাতলা পায়খানার জন্য meamidle (লােপামাইন্ড)যুক্ত ওষধঃ

Cap. Imotil (হমােটিল) বা, Can Ionerin (লােপেরিন) বা, Cap. Topamid (লােপামিড) বা, Cap. Loper (লােপার) অথবা Tab. Lomotin (লােমােটিল) (১ ক্যাপসুল=২ এম, জি, লােপেরামাইড)।

মাত্রাঃ প্রথম বারে ২টি ও পরে ১টি করিয়া দিনে ৩/৪ বার।

৫ কালাজ্বরে রক্তশূন্যতা দেখা যায় বলিয়া রক্তবর্ধক ঔষধ অর্থাৎ আয়রণ টনিক দিতে হয়।

তরল আকারেঃ

 Sy. Fendex (ফেরিডেক্স) বা, Sy. Adiron (এডিরন) বা, Sy. FerTolysin (ফেরােলাইসিন) বা, Sy. May-Flower (মে-ফ্লাওয়ার) বা, Sv. Ferodef (ফেরােডেফ) বা, Sy. Peoron (পিয়ােরন) বা, Sy. MicroFeron (মাইক্রোফেরন) Liquid বা, Sy. Feosphate (ফিয়ােসফেট) বা, Sy. Ferate (ফিরেট) বা, Sy. Aristoferon (এরিসটোফেরন) বা, Sy. Ferosin (ফেরােসিন) বা, Sy. Ferglucon (ফারগ্লকোন)।

অথবা, 

ক্যাপসুল আকারেঃ

 Cap. Feridex+ (ফেরিডেক্স+) বা, Cap. Therafeon (থেরাফিয়ন) বা, Cap. Femaron (ফেমারন) বা, Cap. Ferate (ফিরেট) বা, Cap. May-Flower (মে-ফ্লাওয়ার) বা, Cap. Folferrum (ফলফিরাম) বা, Cap. Dipiferol (ডিপিফেরল)।

সেবনবিধিঃ 

তরল ঔষধ দৈনিক ২ চামচ করিয়া ২/৩ বার অথবা ক্যাপসুল ১টি করিয়া দিনে ২বার আহারের পর সেব্য।

৫৷ নাড়ীর গতি ক্ষীণ হইলেঃ 

Coramin (কোরামিন) drop বা, Nikathimide (নিকাথিমাইড) drop ১০/১৫ ফোটা করিয়া দৈনিক ২/৩ বার সেব্য।

৬৷ দাঁতের গােড়ায় ঘা দেখা দিলেঃ 

Cap. Duplocin (ডুপ্লেসিন) বা, Cap. Navacillin (নাভাসিলিন) বা, Cap. Acmecillin (একমিসিলিন) বা, Cap. Ampexin (এমপেক্সিন) বা, Cap. Amplin (এমপ্লিন) বা, Cap. Penacillin (পেনাসিলিন) বা, Cap. Pharmacillin (ফার্মাসিলিন) বা, Cap. Ampicil

মাত্রাঃ ১৮-c ভিnewce টিএসকো (এম্পিসিল) বা, Cap. Unicillin (ইউনিসিলিন) বা, Cap. Ficillin (ফাইসিলিন)।
 (১ ক্যাপসুল=২৫০ এম, জি, এমপিসিলিন)। মাত্রাঃ ১টি করিয়া দিনে ৪ বার ৫/৭ দিন।

৭। vitamin-C (ভিটামিন-সি) অর্থাৎ ASCOrbic Acid (এসকরবিক এসিড) যুক্ত ঔষধঃ

 Tab. Chewce (চিউসি) 250 mg. বা, Tab. Hi-C (হাই-সি) 250 mg. বা, Tab. Ascovt (এসকোভিট) 250 mg. বা, Tab.. Ceet (সি-ভিট) 250 mg, বা, Tab. Ascoson (এসকোসন) 250 mg. বা Tab. Citlets (সিটলেটস) 250 mg. বা, Ppit-C (পিপিভিট-সি)বা, Tab. D-Cee (ডিসি) 250mg. 

মাত্রাঃ ১ বড়ি করিয়া দৈনিক ৩ বার।

কালাজ্বর এর পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা 

১। ক্ষুধা বেশী হইলে অল্প খাবার খাইবে, বেশী খাইলে পেট খারাপ হইতে পারে।
২। তরল পথ্য হিসাবে বার্লি, এরারুট, ফলের রস, হরলিক্স জাতীয় খাবার। দিতে হয়।
৩। কাগজী লেবুর রস খাইলে উপকার হয়।
৪। স্যাওয়াই মাছি ধ্বংসের জন্য গ্যামাক্সিন পাউডার ছিটাইতে হইবে। 
৫। ব্যবহারের কাপড়-চোপড় জীবাণুমুক্ত রাখিতে হইবে। 
৬। বমি বন্ধের জন্য ঐন্টি-এ্যামিটিক জাতীয় ঔষধ দিতে হইবে। 
৭। শরীর দুর্বলের জন্য ভিটামিন বি কমপ্লেক্স জাতীয় ঔষধ দিতে হইবে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.