Type Here to Get Search Results !

মালেরিয়া জ্বর কি, লক্ষণ, অবস্থা, চিকিৎসা, ওষধ, পথ্য ও ব্যবস্থা

মালেরিয়া জ্বর কি, মালেরিয়া জ্বর লক্ষণ, মালেরিয়া জ্বর এর অবস্থা, মালেরিয়া জ্বর চিকিৎসা, ওষধ, পথ্য ও ব্যবস্থা নিয়ে জানব।

মালেরিয়া জ্বর কি, লক্ষণ, অবস্থা, চিকিৎসা, ওষধ, পথ্য ও ব্যবস্থা
মালেরিয়া জ্বর কি, লক্ষণ, অবস্থা, চিকিৎসা, ওষধ, পথ্য ও ব্যবস্থা

জীবাণুতত্তবিদগণ বলেন, “প্লাজমােডিয়াম নামক এক প্রকার প্রটোলো মানবদেহে ম্যালেরিয়া রােগ সৃষ্টি করে। এই রােগের প্যারাসাইটগুলি ম্যালেরিয়া রােগীর শরীরে বিদ্যমান থাকে। স্ত্রী জাতীয় এনােফিলিস মশা আক্রান্ত রােগীকে দংশন করিলে ঐ রােগজীবাণু মশার দেহে প্রবেশ করে। অবশেষে যখন উহা সুস্থ মানবদেহে দংশন করে, তখন ঐ সুস্থ ব্যক্তির রক্তের লােহিত কণিকার সহিত রােগজীবাণ। মিশিয়া বংশবৃদ্ধি করে এবং ১০/১২ দিনের মধ্যে সুস্থ ব্যক্তি ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশ ও ভারতে এই রােগের প্রাদুর্ভাব খুব বেশী ছিল। তবে আজকাল বহুলাংশে ম্যালেরিয়া জ্বর কমিয়া গিয়াছে।

মালেরিয়া জ্বর লক্ষণ

 ১। রােগী শীত শীত অনুভব করে, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়, প্রবল কম্প দিয়া জ্বর। আসে। রােগী এত বেশী কাঁপিতে থাকে যে, লেপ ও কম্বল দিয়া রােগীর সমস্ত শরীর চাপা দিলেও কম্পন বন্ধ হয় না এবং মাথা ব্যথা থাকে, বেদনা হয়, এমন অবস্থা বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী হয়।
২। দেহের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং পরিশেষে ১০৩-১০৪° ডিগ্রী হয়, রােগী তখন প্রলাপ বকিতে থাকে। উত্তাপ বৃদ্ধি পাইবার পর রােগী গরম অনুভব করে, কম্প অল্প হয় এবং নাড়ীর স্পন্দন দ্রুত হয়। রােগী শরীরে কাপড় রাখতে পারে না।
৩। জ্বর ছাড়িবার সময় রােগীর ভীষণ ঘাম হয় এবং তাপমাত্রা কমিয়া যায়।। | বিদ্রঃ এই জ্বরের বিশেষ বিস্তারিত বিবরণ লিখিয়া পুস্তকের আকার বৃদ্ধি করিব না, কারণ সকলেই বােধ হয় ম্যালেরিয়ার কিছু কিছু উপসর্গ দেখিয়াছেন৷

ম্যালেরিয়া জ্বরের ৩টি অবস্থা। 

১। শীতাবস্থা (Cold Stage), 
২। উষ্ণাবস্থা (Heat Stage) ও 
৩৷ ঘর্মাবস্থা (Sweat Stage)। 

ম্যালেরিয়া জ্বরে সচরাচর এই তিনটি অবস্থা দেখা যায়, অর্থাৎ শীত করিয়া জ্বর। আসা, তৎপর শরীর উষ্ণ হইয়া গাত্ৰতাপ বৃদ্ধি হওয়া এবং ঘাম দিয়া জ্বর একেবারে ছাড়িয়া যাওয়া। জ্বরে অত্যধিক পিপাসা হয়। এই তিনটি লক্ষণের স্পষ্ট সমাবেশ দেখিলে, তাহাকে ম্যালেরিয়া বলিয়া বুঝিতে হয়।

অনেক সময় দেখা যায়, প্রায়ই ম্যালেরিয়া জ্বর কোনও এক নিরূপিত সময়ে আসে। কিন্তু মাঝে মাঝে আবার ব্যতিক্রমও ঘটে, তাই ইহাকে তিনভাগে ভাগ করা যায়৷

(১) প্রত্যহ একবার জ্বর৷ (২) একদিন অন্তর জ্বর বা পালি জ্বর৷ (৩) দুইদিন অন্তর জ্বর বা পালি জ্বর৷

অবিরাম ম্যালেরিয়া জ্বরঃ 

এই প্রকারের ম্যালেরিয়া জ্বর সকল সময় থাকে এবং টাইফয়েডের সহিত ইহার ভুল হইতে পারে। তবে কখনও জ্বরের মাত্রা কমে, আবার কখনও বৃদ্ধি পায়, কিন্তু Step Ladder like হয় না। রােগীর জিহ্বা শুকনা এবং বাদামী রংয়ের হয়। অনেক সময় রােগীর ডায়রিয়াও দেখা যায়।।

ক্রোণিক অবস্থাঃ 

কিছুদিন জ্বর হয়, আবার কমিয়া যায়, আবার জ্বর হয়। এমনিভাবে বার বার জ্বর হইলে প্লীহা বাড়ে। অনেক দিন পর প্লীহা শক্ত হয়, লিভার। বাড়ে ও রক্তহীনতা দেখা যায়। পরিশেষে চক্ষু হলদে হয়, অর্থাৎ রােগী জণ্ডিসে আক্রান্ত হয়। তবে আজকাল ক্রোণিক ম্যালেরিয়া বিশেষ দেখা যায় না।

ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া (পানিসাস ম্যালেরিয়া)ঃ 

এইসব রােগীর জ্বর দ্রুত বৃদ্ধি পাইয়া ১০৪০-১০৭০ ডিগ্রী পর্যন্ত উঠিতে পারে। রােগী ভুল বকে এবং অজ্ঞান হয়। অনেক সময় মাথায় অবিরত পানি ঢালিলেও জ্বর কিছুতেই নামিতে চাহে না। রক্ত পরীক্ষা করিলে ম্যালেরিয়া জীবাণু পাওয়া যায়। সেইজন্য সম্ভব হইলে রক্ত পরীক্ষা করিয়া রিপাের্টের উপর নির্ভর করিয়া সঙ্গে সঙ্গে Quinine (কুইনাইন) ইনজেকশন দিতে হয়।

মালেরিয়া জ্বর চিকিংসা

নিম্নলিখিত ঔষধ ম্যালেরিয়া জীবাণু ধ্বংস করে। প্রয়ােজনমত নিম্নের ঔষধ ২/১ পদ ব্যবহার করা যাইতে পারে৷

১। Quinine di-hydrochlorid (কুইনাইন ডাই-হাইড্রোক্লোরাইড) বা Quinine Sulphate or Bisulphate (কুইনাইন সালফেট বা বাইসালফেট) বড়ি বা ইনজেকশন আজকাল বিশেষ ব্যবহার করা হয় না। কেননা, ইহাতে সকল সময় রােগীর মাথা ভোঁ ভোঁ করে। অনেক সময় কুইনাইন ইনজেকশন পাকিয়া যায়। ইহাতে রােগীর অঙ্গহানী হইতেও দেখা গিয়াছে। ইহার পরিবর্তে আজকাল অন্য ঔষধ ব্যবহার করা হয়। কাজেই Quinine ইনজেকশন ব্যবহার পনিসাস ম্যালিরিয়া ছাড়া সর্বোতভাবে পরিত্যাজ্য। Tab. Jasoquine (জেলােকুইনাইন)। ইহা কুইনাইন। সালাফেট।

২। Paludrine (প্যালুড্রিন) : 

ইহা Preventive (প্রিভেনটিভ) হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইহা ম্যালিরিয়ায় ভাল কাজ করে। ইহার বিষক্রিয়া (Reaction) কম। ইহার কাজ খুব ধীরে হয়, রােজ একটি করিয়া বড়ি ২/৪ দিন সেব্য। (ইহা বাজারে সরবরাহ নাই)

৩। Chloroquine (ক্লোরােকুইন) Phose: 

এই ঔষধটি বিভিন্ন কোম্পানীর বিভিন্ন ট্রেডমার্কে বাজারে চালু আছে। Tab. Aldaquine (এলড়াকুইন) বা, Tab. Pharmaquine (ফামাহন) বা, Tab. Nivaquine-P (নিভাকুইন -পি) বা, Tab. Jasochlor (জেসােক্লোর) বা, Tab Resochin (রিসােসিন) বা, Tab. Avlochlor (এ্যাভলােক্লোর) বা, Tab. Malaquine (ম্যালাকুইন)। 

মাত্রাঃ 

প্রথমে ২৫০ মিঃ গ্রাঃ এর ৪টি বডি একত্রে অতঃপর ২টি বড়ি ৬ঘন্টা পর। পরের দিন হইতে ১ বড়ি দিনে ২ বার ৩ দিন। কম বয়স্ক অদ্ধ মাত্রা। ২-৫ বৎসর সিকি মাত্রা।

বাচ্চাদের জন্যঃ

 Seemaquine (সিমাকুইন) Syrup বা, Avlochlor Syrup (এ্যাভলােক্লোর সিরাপ) বা, Nivaquine Syrup (নিভাকুইন সিরাপ) বা, Chlorquine Syrup (ক্লোরকুইন সিরাপ) বা, Sy. Chlorolin (ক্লেরােলিন) বা, Sy. Evloquin (ইভলােকুইন) বা, Sy. Quinal (সিরাপকুইনাল)।

মাত্রাঃ ১ বৎসরের নীচে ১/২ চামচ খাবার ৬ ঘন্টা পর ১ চামচ। তারপর দিন। থেকে ১ চামচ করে ৩ দিন।।

অথবা, 

ম্যালেরিয়া প্রতিরােধঃ 

Tab. Premaquine (প্রেমাকুইন) 15mg. মাত্রাঃ প্রত্যহ ১ বড়ি করে ১৪ দিন।।

৪৷ তবে ম্যালেরিয়া জ্বর অনুমান বা সন্দেহ করিলে বা উপরােক্ত ঔষধে সাড়া পাওয়া না গেলে Sultaderine + Primethamine যুক্ত ঔষধঃ

Tab. Malodoxin (ম্যালােডক্সিন) বা, Tab. Malacide (ম্যালাসাইড) বা, Tab. Malarix (ম্যালারিক্স) বা, Tab. Soloprin (সসালােপ্রিন) বা, Tab. Salfamin (সালফামিন) বা, Tab. Sulsider (সালছিডার)।
মাত্রাঃ ৩ বড়ি রাত্রে একবার মাত্র এবং পুনরায় ৭ দিন পর আবার ১ মাত্রা।

৫। কইনাইন ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে অন্য লক্ষণগুলিরও ঔষধ দিতে হয়। ইহার মধ্যে রক্তশূন্যতা প্রধান। তাই রােগীকে Iron (আয়রণ) মিশ্রিত টনিক ব্যবহার করিতে দিতে হইবে। কেননা, রােগী রক্তহীন হয় বলিয়াই এমন ঔষধের প্রয়ােজন দেখা দেয়। 
Sy. Feridex (ফেরিডেক্স) বা, Sy, Ferrolysin (ফেরােলাইসিন) বা, Sy. Honiferon (হানিফেরন) বা, Sy. G-Iron (জি আয়রণ) বা, Sy. Mayflower (মে-ফ্লাওয়ার) বা, Sy. Becotone 500 (বিকোটন ৫০০) বা, Sy. Glucoferon (গ্লুকোফেরন) বা, Sy. Ferocin (ফেরােসিন)।।

সেবন বিধিঃ ১/২ চামচ করিয়া দৈনিক ৩বার আহারের পর সেব্য।

৬৷ জ্বর ছাড়া অবস্থায় দুর্বলতার জন্যঃ 

Sy. Aristoplex (এরিসটোপ্লেক্স) বা, Sy. Opsovit (অপসােভিট বা, Sy. B-50 (বি-ফিপটি ফোট) বা, Sy. Before (বিফোর্ট)। মাত্রাঃ ১-৪ চামচ করিয়া আহারের পর দিনে ৩ বার সেব্য। [ বিঃ দ্রঃ গর্ভবতী স্ত্রীলােকের জন্য guinine বড়ি বা, Injection ব্যবহার করিতে নাই, কেননা উহাতে গর্ভপাত হইতে পারে। তবে পনিসাস ম্যালেরিয়া হইলে অনুমতি লইয়া রােগীণীর প্রাণ রক্ষার্থে উহা ব্যবহার করা যাইতে পারে৷

মালেরিয়া জ্বর লক্ষণ পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা

১। বেশী অসুবিধা হইলে বরফ বা ঠাণ্ডা পানি দ্বারা শরীর ও মাথা মুছিয়া দিতে হইবে।

২। প্রচুর পানি খাইবে এবং শিরায় স্যালাইন দেওয়া যাইবে। ৩। প্যাথলজীঃ রক্ত পরীক্ষায় M-test পজেটিভ (+ve) হইবে।
৪। জুর বৃদ্ধি পাইলে বমি হইতে পারে বলিয়া জ্বরের প্রথম অবস্থায় গরম পানি ও তাহার সহিত লেবুর রস খাইতে দেওয়া যায়।
৫। জুর ছাড়িয়া যাইবার পর সাগু, বালি খাইতে দেওয়া যায়। তবে চিকিৎসার পর জুর বন্ধ হইলে সাগু, সাগুভাত, ছােট মাছের ঝােল ও পরিশেষে ভাত দেওয়া যায়।
৬। স্যাৎসেতে জায়গায় থাকা উচিত নয়। ৭। মশার উপদ্রবের জন্য মশারী খাটান ভাল।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.