ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প পব 4(Children's Educational Stories Part 4)
![]() |
ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প পব 4(Children's Educational Stories Part 4) |
এ পোস্টের মাধ্যমে, আমরা ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প গুলো নিয়ে পড়বো। ছোটদের শিক্ষনীয় গল্প পড়ার মাধ্যমে আমরা অনেক মজা পেতে পারি। ছোটদের শিক্ষনীয় গল্প পড়ে অনেক শিক্ষা অনেক কিছু শেখা যায়। নিচে আমরা কয়েকটি শিক্ষনীয় গল্প নিয়ে গল্প গুলো পড়ব।
সিংহ, বাঘ, শৃগাল এবং কাক
এক গভীর জঙ্গলে এক বৃদ্ধ সিংহ বাস করত। তার নাম মাদোকাতা। তার তিনজন ভৃত্য ছিল একটি বাঘ, একটি শৃগাল এবং একটি কাক। একদিন বাঘ, শৃগাল এবং কাক একসাথে মাঠে ঘুরতে ঘুরতে একটি উটের পাল থেকে ছিটকে পড়া একটি বাচ্চা উট দেখতে পেল। তারা উটের বাচ্চাকে জিজ্ঞাসা করল সে কোথা থেকে এসেছে। উটের বাচ্চা জবাব দিল যে, ভিন দেশ থেকে কাফেলায় আসার সময় দল। থেকে সে ছিটকে পড়েছে। এই বাচ্চা উটটিকে তারা পশুরাজ সিংহের। নিকট নিয়ে গেল। সিংহ অসহায় উটের বাচ্চাকে আশ্রয় দিতে রাজি হল। তার নাম দেয়া হল চিত্রকর্ণ । সিংহ বার্ধক্যের জন্য শিকার করতে পারত না। তার ভত্যদের ওপর খাদ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দিল । কয়েকদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় বাঘ ও শৃগালের পড়ে পশুরাজ সিংহের জন্য শিকার ধরা সম্ভব হল না। তখন তারা ফন্দি বার করতে লাগল কীভাবে তাদের প্রভু সিংহ উটের বাচ্চাকে মেরে খেতে পারবে । বাঘ ও শৃগাল চিন্তা করল যদি এই ফন্দি কার্যকরী করা যায় তা হলে তাদের অনেক দিনের খাবারের জোগাড় হয় । বাঘ, শৃগাল ও কাককে বলল, “আমাদের প্রভু উটের বাচ্চাকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছেন । তাকে তিনি কীভাবে বধ করবেন?” কাক বলল, “আমাদের প্রভু তাে বৃদ্ধ ও শীর্ণকায়। তা ছাড়া তিনি উটের বাচ্চাকে আশ্রয় দিয়েছেন। এ অবস্থায় তিনি তাকে কীভাবে হত্যা করবেন!” এ দিকে বৃদ্ধ সিংহ ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়ল । সে তার ভৃত্যদের শীঘ্র খাবার আনতে বলল । তারা জবাব দিল, “মহারাজ! আমরা খাবার জোগাড় করতে পারি নি।” তখন সিংহ বলল, “তাহলে আমরা কি অভূক্ত থেকে মারা যাব?” তখন কাক বলল, “আমাদের কাছে একটিমাত্র খাদ্য আছে।” সিংহ জিজ্ঞাসা করল, “সেটা কি?” কাক জবাব দিল, “উটের বাচ্চা।” সিংহ বলল, “কীভাবে তা সম্ভব! আমি তাকে আমার কাছে আশ্রয় দিয়েছি।” তখন বাঘ, শৃগাল এবং কাক একসাথে বলল, “মহারাজ! আপনাকে বধ করতে হবে না। আমরা এমন কৌশল বের করব যে উটের বাচ্চা নিজেই আপনার কাছে নিজেকে উৎসর্গ করবে।” এরপর চালাকি করে বাঘ, শৃগাল এবং কাক নিজেদেরকে উৎসর্গ করার প্রস্তাব দিলে সিংহ তাতে রাজি হল না। কারণ তারা ছিল সিংহের বিশ্বস্ত ভত্য। বাঘ, শৃগাল এবং কাককে সিংহের প্রতি উদার। হতে দেখে উটের বাচ্চাও নিজেকে সিংহের কাছে উৎসর্গ করার কথা বলল। বলার সাথে সাথে বাঘ লাফ দিয়ে তার ঘাড় ভেঙে মেরে ফেলল। এরপর তারা চার জন মনের আনন্দে উটের বাচ্চার মাংস। খেল।
নীতিকথা : ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও দুরভিসন্ধি সর্বনাশ ডেকে আনে।
সাপ এবং ব্যাঙ
এক গভীর জঙ্গলে এক অজগর সাপ বাস করত। একদিন খাবারের খোজে গর্ত থেকে সাপ বেরিয়ে এল । বার্ধক্যজনিত কারণে খাবার জোগাড় করা তার জন্য খুব মুস্কিল হল। সে এক নদীর ধারে এসে চুপ করে শুয়ে থাকল এই আশায় যে, যদি কোনাে ব্যাঙ ঐ স্থান থেকে। লাফিয়ে পানিতে পড়ে, তা হলে সে তাকে গিলে খাবে । চুপচাপ শুয়ে। থাকতে দেখে ব্যাঙ অজগরকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি খাবারের খোঁজে গিয়ে চুপ করে এখানে শুয়ে আছ কেন?” জবাবে অজগর বলল, “ব্যাঙ ভাই, তুমি তােমার কাজে যাও। আমাকে বিরক্ত কর না। আমার খুবই দুর্ভাগ্য যে আমি শিকার ধরতে পারি না।” তখন অজগর শিকার ধরার জন্য ব্যাঙকে একটি গল্প বানিয়ে বলল। কোনাে এক শহরে এক ব্রাহ্মণ বাস করত। তার এক ছেলে ছিল। একদিন এই অজগর তার ছেলেকে কামড় দিলে সে মারা যায়। তখন ব্রাহ্মণটি সাপকে অভিশাপ দিয়ে বলল যে, অজগর যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন তাকে তার পিঠে করে ব্যাঙ বহন করতে হবে। চালাকি করে গল্প বানিয়ে অজগরটি ব্যাঙকে বােকা বানাবার চেষ্টা করল। সাপের কথায় বিশ্বাস করে ব্যাঙ তার পিঠে লাফ দিয়ে উঠল। সাপটি তাকে নিয়ে পানির ভিতরে গিয়ে খেয়ে ফেলল ।।
নীতিকথা : অসৎ পথ, অসত্য কথা, অনিষ্ট করার মনােবৃত্তি নিন্দনীয় ও বর্জনীয় ।
রাজহাঁস এবং কাক
উজ্জয়িনী নগরীর পাশে এক বিশাল বন ছিল। এই বনে এক ডুমুর গাছের নিচে এক শিকারী ঘুমিয়ে ছিল। তার তীর ও ধনুক পাশেই ছিল। গাছের ডালের ছায়ায় সে ঘুমিয়ে পড়ে। তার পাশ দিয়ে। খরগােশ চলে গেলেও তার হুঁশ হল না। শিকারীর মুখে ডালপালা যে ছায়া দিয়েছিল তা রােদ পড়ে যাওয়ায় সরে গেল। তখন ঐ গাছে এক | রাজহাঁস উড়ে এসে বসল। সে দেখল যে, পড়ন্ত রােদের কিরণ 'শিকারীর মুখের উপর পড়েছে। তখন রাজহাঁস দয়া করে তার পাখা মেলে ধরল যাতে শিকারীর ঘুমের ব্যাঘাত না হয়। অনেকক্ষণ ঘুমিয়ে থাকার পর শিকারী হাই তুলে ঘুম থেকে উঠল । যখনই সে হাই তুলল তখনই দূর থেকে উড়ে এসে এক দুষ্টু কাক তার মুখে বিষ্ঠা ফেলে চলে গেল। চোখ মেলে সে একটি রাঁজহাসকে ডানা মেলে ডালে বসে থাকতে দেখল। সে মনে করল যে রাজহাঁসই তার মুখে বিষ্ঠা ফেলেছে। রেগে গিয়ে পাশে রাখা ধনুকের সাহায্যে সে তীর ছুড়ে রাজহাঁসকে মেরে ফেলল ।
নীতিকথা : চিন্তা-ভাবনা করে কাজে করলে অনুশােচনা হয় না ।
বেজী এবং সাপ
উজ্জয়িনী নগরীতে এক ব্রাহ্মণ বাস করত। তার নাম মাধব । তার স্ত্রী ছিল খুব সুন্দরী এবং বুদ্ধিমতী। তাদের এক নবজাতক শিশু ছিল । একদিন ব্রাহ্মণের স্ত্রী নদীতে পানি আনতে যাবার সময় তার স্বামীকে বলে গেল শিশুসন্তানটিকে পাহারা দিতে । ব্রাহ্মণ তার সন্তানকে পাহারা দিতে লাগল। এমন সময় রাজার কাছ থেকে এক পেয়াদা এসে তাকে বলল, “মহারাজ আপনাকে দরবারে ডেকেছেন। তিনি আপনাকে কিছু উপঢৌকন দিবেন।” ব্রাহ্মণের স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় তিনি তার শিশু সন্তানকে কার কাছে রেখে যাবেন তাই নিয়ে। মহাচিন্তায় পড়লেন। যদি না যান তা হলে সে উপঢৌকন থেকে বঞ্চিত হবেন এবং অন্যান্য ব্রাহ্মণরা তা নিয়ে নেবে। ব্রাহ্মণের এক পােষা বেজী ছিল । তিনি বেজীকে তার শিশু সন্তানের পাহারায় রেখে। গেলেন । ব্রাহ্মণের স্ত্রী কিছুক্ষণ পরে এসে দেখল যে তার স্বামী বাড়িতে নেই এবং তার বাচ্চা ঘুমিয়ে আছে। পােষা বেজী তাকে পাহারা দিচ্ছে । এ দৃশ্য দেখে আশ্বস্ত হয়ে স্ত্রী নদীর ঘাটে গেল স্নান করে কলসীতে পানি ভরে আনতে। এরমধ্যে দরবার থেকে ব্রাহ্মণ ফিরে এসে বেজীর রক্তমাখা মুখ দেখতে পেল । এতে তার ধারণা হল। যে বেজী তার সন্তানকে মেরে ফেলেছে। রেগে গিয়ে সে বেজীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলল। এর কিছুক্ষণ পর সে ঘরের ভিতরে গিয়ে তার সন্তানকে হাত পা ছুড়ে খেলা করতে দেখল। শুধু তাই না বাচ্চার খাটের কাছে মেঝেতে একটি সাপকে মরে পড়ে থাকতে। দেখল । তখন ব্রাহ্মণের খুবই অনুশােচনা হল । কিছুক্ষণ পরে ব্রাহ্মণের স্ত্রী নদীর ঘাট থেকে ফিরে প্রথমে মৃত বেজী এবং পরে মৃত সাপকে দেখতে পেল। ছুটে গিয়ে সে সন্তানকে জীবিত অবস্থায় পেয়ে বুকে। তুলে নিল।।
নীতিকথা : উপকারীর উপকার যে স্বীকার করে না সে কৃতঘ্ন।


