ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প পব 3(Children's Educational Stories Part 3)
এ পোস্টের মাধ্যমে, আমরা ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প গুলো নিয়ে পড়বো। ছোটদের শিক্ষনীয় গল্প পড়ার মাধ্যমে আমরা অনেক মজা পেতে পারি। ছোটদের শিক্ষনীয় গল্প পড়ে অনেক শিক্ষা অনেক কিছু শেখা যায়। নিচে আমরা কয়েকটি শিক্ষনীয় গল্প নিয়ে গল্প গুলো পড়ব।
উত্তর ভারতের হস্তিনাপুরে এক ধােপা খুব সুখে শান্তিতে বাস করত। তার নাম বিলাস। তার এক হৃষ্টপুষ্ট গাধা ছিল। সে সারাদিন পিঠে ভারি-ভারি মালামাল বহন করত। ঐ গাধা কালক্রমে বুড়াে হয়ে গেলে তার মাল বহন করার ক্ষমতা কমে গেল। তার মালিক ধােপা তার। এই অসহায় অবস্থা ঢাকার জন্য এক সিংহের ছাল তার গায়ে জড়িয়ে। দিল। এরপর একদিন এক বাগানের পাশের শস্যক্ষেতে তাকে ছেড়ে দিল। শস্য ক্ষেতের মালিক তার শস্যক্ষেতে এসে গাধাকে সিংহ মনে করে ভয় পেয়ে গেল। কারণ মালিক বুঝতে পারে নি যে গাধার পিঠে সিংহের ছাল জড়ানাে ছিল। সিংহ মনে করেই মালিক বাড়িতে গিয়ে। তীর ধনুক নিয়ে এল। এরপর সে একটি চাদর গায়ে দিয়ে মাঠের এক কোনায় পিঠ বাঁকা করে এমনভাবে নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করল যে, বােঝা গেল না সে মানুষ না গাধা। এদিকে সিংহের ছাল পরা গাধাটি শস্যক্ষেতের মালিককে মেয়ে-গাধা মনে করে তার দিকে ছুটে গেল। গাধাকে তার দিকে ছুটে আসতে দেখে মালিক বুঝতে পারল যে, সিংহের খােলস পরে গাধাটি প্রায় তার মাঠে এসে শস্য খেত। তখন সে তীর ছুড়ে তাকে মেরে ফেলল ।
নীতিকথা : ধােকাবাজি এবং শঠতার পরিনাম ভালাে হয় না।
নীল শৃগাল
এক মাঠে এক তাঁতী তার বিরাট ভাণ্ড নিয়ে কাপড়ে রঙ করছিল । ঐ মাঠের পাশে এক বিশাল জঙ্গল ছিল। সেই জঙ্গলে এক শৃগাল বাস করত। সে বনে ঘুরতে ঘুরতে তাঁতীর ভাণ্ডের কাছে এল । দূরে তাঁতী নীল রঙ মাখানাে কাপড়গুলাে মেলে দিচ্ছিল। এই সুযােগে শৃগাল নীলের ভাণ্ডকে পানির চৌবাচ্চা মনে করে পানি পান করার জন্য ভাণ্ডের মধ্যে লাফ দিল। ভিতরে পড়ে গেলে শৃগালের গায়ে নীল রঙ মেখে গেল। কিন্তু ভাণ্ডটি এত বড় ছিল যে সে লাফ দিয়ে বাইরে আসতে পারল না। তখন সে মরার মতাে ভান করে রইল। সারারাত এভাবে কেটে গেল। পরের দিন সকালে তাতী তার নীলের ভাণ্ডের কাছে এসে এক মরা শৃগাল দেখতে পেল। সে তাকে তুলে ভাণ্ডের বাইরে ফেলে দিল। ভাণ্ডের বাইরে আসার সাথে সাথে লাফ দিয়ে উঠে। শৃগাল দৌড়ে জঙ্গলের দিকে চলে গেল। জঙ্গলের অন্যান্য শৃগাল তাকে দেখে অবাক হয়ে গেল—তারা তার নাম দিল নীল শৃগাল। নীল শৃগাল মনে মনে ভাবল যে, সে অন্যান্য শৃগালের চেয়ে পৃথক; কারণ তার গায়ে নীল রঙ রয়েছে। নীল শৃগাল অন্যান্য শৃগালদের ডেকে বলল, “যেহেতু আমি তােমাদের চেয়ে পৃথক এবং বনদেবী আমাকে নীল রঙ মাখিয়ে পবিত্র করেছেন, সেহেতু আমাকে তােমাদের রাজার সম্মান দেয়া উচিত। আজ থেকে তােমরা আমার হুকুম মেনে চলবে।” নীল শৃগালের আত্মগরিমা দেখে অন্যান্য শৃগালেরা ঈর্ষান্বিত হল। শুগাল রাজা বাঘ, ভালুক, সিংহকে তার পরামর্শদাতা রাখল কিন্তু স্বজাতি শৃগালদের তার সভার সদস্য করল না। অপমানিত হয়ে শৃগালেরা এক ফন্দি বের করল। তারা পরামর্শ করল যে রাতে তারা খুব জোরে জোরে হুক্কা হুয়া বলে ডাক দেবে এবং তাদের ডাক শুনে স্বজাতি নীল শগালও ডাক দেবে। এর ফলে নীল শৃগালের সভাসদদের মধ্যে সিংহ ও বাঘ তার আসল পরিচয় পেয়ে তাকে মেরে ফেলবে। পরামর্শমতাে কাজ হল । গভীর রাতে জঙ্গলের সব শৃগাল একসাথে। জোরে জোরে হুক্কা হুয়া বলে ডাক দিতে শুরু করল । স্বজাতির ডাক শুনে নীল শৃগাল রাজাও একই স্বরে ডাক দিতে লাগল। এর ফলে একটি বাঘ নীল শৃগালের আসল পরিচয় পেয়ে তাকে আক্রমণ করে মেরে ফেলল।
নীতিকথা : প্রতারণা নিকৃষ্ট গুণ ।
নাপিত এবং ভিক্ষুক
অযােধ্যার এক নগরীতে এক ক্ষত্রিয় হিন্দু বাস করত। তার নাম চৌদামনি। সে খুব সম্পদশালী ছিল এবং শিবের পূজা করত। কিন্তু একদিন সে টাকা-পয়সার মােহ ত্যাগ করে সাধুর জীবন শুরু করল। তার সংসার-ত্যাগ ও কৃচ্ছ-সাধনের জন্য লক্ষ্মীদেবী তাকে বললেন, “তুমি সাধু সন্ন্যাসীর ব্রত নিয়েছ, এ কারণে তুমি পুরস্কার পাবে।” একরাতে স্বপ্নে লক্ষ্মীদেবী ব্যবসায়ীর কাছে এসে উপস্থিত হয়ে বললেন “আগামীকাল সকালে তুমি দাড়ি কেটে দরজার কাছে দাঁড়াবে। সেখানে তুমি এক ভিক্ষুককে দেখতে পাবে। তাকে দেখার সাথে সাথে লাঠি দিয়ে তাকে বেদম মারতে থাকবে। এভাবে মারতে থাকলে ভিক্ষুকটি স্বর্ণমুদ্রার পাত্রে রূপান্তরিত হবে। এরপর তােমার পুণ্যের জন্য তুমি এ সমস্ত স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে সারাজীবন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারবে।” লক্ষ্মীদেবীর কথা মতাে ব্যবসায়ী সকালে দাড়ি কেটে একটি লাঠি নিয়ে দরজার সামনে দাড়াল। এমন সময় এক ভিক্ষুক তার। কাছে এসে ভিক্ষা চাইল । ভিক্ষুককে দেখে ব্যবসায়ী লাঠি দিয়ে। পিটাতে শুরু করল এবং কিছুক্ষণের মধ্যে ভিক্ষুকের জায়গায় স্বর্ণমুদ্রার একটি পাত্র দেখা গেল। ঐদিন নিয়মমাফিক এক নাপিত ব্যবসায়ীর বাড়িতে তার দাড়ি কামানাের জন্য এসেছিল । দূর থেকে এক ভিক্ষুককে লাঠি মেরে স্বর্ণপাত্রে পরিণত করার দৃশ্য দেখে নাপিত অবাক হয়ে গেল । একদিন সে ব্যবসায়ীর বাড়িতে খুব সকালে এসে তাকে না ডেকে তার দরজায় অপেক্ষা করতে থাকল। কিছুক্ষণ প্র এক ভিক্ষুক আসলে সে বড় একটি লাঠি দিয়ে তাকে মারতে থাকল। মারতে মারতে ভিক্ষুকটিকে নাপিত মেরে ফেলল; কিন্তু তার পরিবর্তে। কোনাে স্বর্ণপাত্র দেখা গেল না। এর ফলে হত্যার অভিযােগে নাপিতের মৃত্যুদণ্ড হল।
নীতিকথা : লােভ-লালসা অধঃপতন ডেকে আনে।
সারস, সাপ এবং বেজী
উত্তর ভারতে এক বিশাল পাহাড়ের পাশে এক ডুমুর গাছ ছিল। এই গাছের পাশ দিয়ে ইরাবতী নদী বয়ে যেত। ডুমুর গাছের নিচে এক গর্তে এক অজগর সাপ বাস করত। গাছের উপরে সারস পাখির খুব বড় বাসা ছিল। এই বাসায় সারসের বাচ্চা খাবারের জন্য চি চি শব্দ করে সব সময় ডাকত। অজগর গাছের কাণ্ড-ডাল বেয়ে সারসের বাসায় গিয়ে বাচ্চাদের খেয়ে ফেলত। এভাবে অনেক বাচ্চা মারা। গেলে এক বৃদ্ধ ও বুদ্ধিমান সারস বাচ্চাদের বাঁচাবার জন্য এক ফন্দি বের করল। সে এক বেজীর গর্ত থেকে সাপের গর্ত পর্যন্ত অনেক মাছ। ছিটিয়ে রাখল। বৃদ্ধ সারস মনে করল যে, মাছ খেতে খেতে বেজী সাপের গর্তে গিয়ে সাপকে মেরে ফেলবে। পরিকল্পনামতাে কাজ হল। পরের দিন সারস দেখল যে বেজীটি মাছ খেতে খেতে সাপের গর্তে এসে তাকে আক্রমণ করে মেরে ফেলেছে। এ সময় সারস পাখি তার বাসায় ছিল না। সে বাচ্চাদের খাবার জোগাড় করতে গিয়েছিল। বাসায় বাচ্চাদের ‘চি চি’ শব্দ শুনে বেজী গাছে উঠে সব বাচ্চাকে খেয়ে ফেলল। সারস তার বাসায় ফিরে এসে তার বাচ্চাদের দেখতে।
পেয়ে খুবই কষ্ট পেল। তার ধারণা হল যে, যে বেজী সাপকে মেরেছে, সে-ই তার বাচ্চাদেরও মেরে ফেলেছে।
নীতিকথা : প্রকৃত বন্ধু চেনা মুস্কিল । দুঃসময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু । শত্রুকে কখনও বিশ্বাস করা উচিত নয় ।


