ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প পব 2(Children's Educational Stories Part 2)
পোস্টের মাধ্যমে, আমরা ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প গুলো নিয়ে পড়বো। ছোটদের শিক্ষনীয় গল্প পড়ার মাধ্যমে আমরা অনেক মজা পেতে পারি। ছোটদের শিক্ষনীয় গল্প পড়ে অনেক শিক্ষা অনেক কিছু শেখা যায়। নিচে আমরা কয়েকটি শিক্ষনীয় গল্প নিয়ে গল্প গুলো পড়ব।
![]() |
| ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প পব 2(Children's Educational Stories Part 2) |
সিংহ এবং ইদুর।
উত্তর ভারতের এক উঁচু পাহাড়ের গুহায় এক সিংহ বাস করত। তার নাম মহাবিক্রম। এ গুহার এক কোণে এক ইদুরও থাকত। একদিন ইদুর বাইরে বের হয়ে গুহার মুখে সিংহকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখল। ইঁদুরটি সিংহের ঘাড়ে উঠে তার কেশর কামড়ে অনেক চুল কেটে ফেলল। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গিয়ে সিংহ হুঙ্কার দিয়ে উঠল। ডান-বামে তাকিয়ে সে বলল, “কার এত বড় সাহস যে পশুরাজ সিংহের কেশর কেটেছে?” ডান দিকে তাকিয়ে সে একটি ছােট ইদুরকে দূরে বসেথাকতে দেখল । কিন্তু থাবা দিয়ে সে ইঁদুরকে মেরে ফেলতে পারল
। এ কারণে সিংহ এক বিড়ালের খোজ করল । একদিন গুহার সামনে দিয়ে এক বিড়াল যাচ্ছিল । সিংহ ইঁদুরটি মারার জন্য বিড়ালকে তার গুহায় তার সাথে থাকতে বলল । সিংহরাজ বিড়ালের জন্য প্রতিদিন খাবার জোগাড় করে দিত। খাবার খেয়ে সে হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠল। বিড়াল দেখে ইঁদুর সিংহের ধারে কাছে এল না। এর ফলে। সিংহ নাক ডেকে ঘুমাতে পারল এবং তার কেশর আর কাটা পড়ল।
একদিন খাবারের খোঁজে ইদুর গুহার ভেতর থেকে বের হতে গিয়ে বিড়ালের সামনে পড়লে বিড়াল সঙ্গে সঙ্গে তাকে মেরে ফেলল। ইঁদুরটি মারা গেলে সিংহ বিড়ালের আর কোনাে দরকার মনে না করে তার খাবার বন্ধ করে দিল । এর ফলে অভুক্ত অবস্থায় বিড়ালটি মারা। গেল ।
নীতিকথা : স্বার্থপরতা নীচ গুণ। উপকারের যে মর্যাদা দেয় না—সে। নিকৃষ্ট জীব।
ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প পব 2(Children's Educational Stories Part 2)
বানরের হাতে ঘণ্টা।
উত্তর ভারতে শ্রীপর্বত নামে এক পাহাড় আছে। এই পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এক চমৎকার শহর দেখা যাবে। শহরের নাম ব্ৰহ্মাপূরা। এই শহরের বাসিন্দাদের সব সময় ভয় ছিল যে, ঐ পাহাড়ে বসবাসকারী দৈত্যটিএকদিন শহরে এসে সব মানুষকে মেরে ফেলবে। দৈত্যের নাম গন্টকনা। একদিন শহরের এক নির্জন রাস্তা দিয়ে এক দস্যু তার লুষ্ঠিত জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছিল। এগুলাের মধ্যে একটি ঘণ্টা ছিল। পাশের জঙ্গল থেকে হঠাৎ একটি বাঘ লাফ দিয়ে বেরিয়ে এসে দস্যুকেমেরে ফেলল। দস্যুর হাতে যে ঘন্টা ছিল সেটি মাটিতে পড়ে গেল গাছের ডাল থেকে লাফ দিয়ে একটি বানর সেটি তুলে নিয়ে গেল দুষ্ট বানর আবার গাছের ডালে উঠে ঘণ্টা বাজাতে লাগল । ঘণ্টা আওয়াজ শুনে শহরের লােকজন মনে করল যে দৈত্যের আসা সম্ভাবনায় সাব ধান-বাণী দেয়া হচ্ছে। এ কারণে তারা শহর ছেড়ে পালিয়ে গেল। তারা রাতে আবার তাদের বাসায় ফিরে এল। তিন. চার দিন ধরে একইভাবে সঙ্কেত ধ্বনি শুনে তারা শহর থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়। একদিন এক বুদ্ধিমতী মহিলা ঘণ্টার আওয়াজ শুনে জঙ্গলের দিকে গেল। যেখানে আওয়াজ হচ্ছিল সেখানে গিয়ে সে। দেখল যে এক দুই বানর তাদেরকে রােজ রােজ ধোকা দিচ্ছে । মহিলাটি একদিন ঘণ্টার আওয়াজ শুনে অনেক ফল নিয়ে বানর যে গাছে বসে ছিল সেখানে গেল। গাছের কাছে গিয়ে মাটিতে ফলগুলাে ছুড়ে মারল। ঘণ্টা হাতে বানর গাছ থেকে নেমে ঘণ্টাটি ফেলে দিয়ে ফল খেতে শুরু করল। মহিলাটি চট করে ঘণ্টাটি বানরের হাত থেকে উদ্ধার করল এবং এর ফলে শহরের অধিবাসীরা নিশ্চিন্তে রাতে ঘুমাতে পারল।
নীতিকথা : মিথ্যা সঙ্কেত-বাণীতে কোনাে উপকার হয় না। দুষ্ট প্রকৃতির লােক বিশ্বাসযােগ্য নয়।
ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প পব 2(Children's Educational Stories Part 2)
সিংহ এবং খরগােশ
অনেকদিন আগের কথা। মান্দারা নামে এক পাহাড়ে এক সিংহ বাস করত। সিংহের নাম দুর্দান্ত। পশুরাজ রােজ জঙ্গলের অনেক প্রাণী একসাথে মেরে খেত। এর ফলে বনের পশুরা এক সভা ডেকে কীভাবে হিংস্র সিংহের থাবা থেকে বাঁচা যায় তার পরামর্শ করল। তারা ঠিক করল যে, একাধিক পশু যাতে মারা না যায় এজন্য তারা প্রতিদিন একটি করে প্রাণী সিংহকে খাবার জন্য উপহার দেবে। এই প্রস্তাব নিয়ে পশুরা একত্রে পশুরাজের কাছে গেল। ধৈর্য ধরে তিনি তাদের কথা শুনে রাজি হলেন। এভাবে প্রতিদিন একটি করে প্রাণী। সিংহ বধ করে খেতে লাগল । এভাবে অনেকদিন কেটে গেল । এরপর একদিন এক বৃদ্ধ খরগােশকে খাবার পালা এল। বুদ্ধিমান খরগোশ সিংহের হিংস্রতা থেকে বাঁচার জন্য চিন্তাভাবনা করতে লাগল । খরগােশ মনে মনে ভাবল যদি তাকে মরতেই হয় তা হলে সিংহের মুখােমুখি হতে আপত্তি কোথায়। ইচ্ছা করে বৃদ্ধ খরগোশ পশুরাজের কাছে গেল । রেগে গিয়ে সে বলল, “অধম খরগোশ। তাের এত বড় আস্পর্ধা যে আমার ক্ষুধার কথা জেনেও তুই এত দেরি করে আসলি?” ধূর্ত খরগােশ তখন সাহস করে পশুরাজকে বলল, “মহারাজ! আমি আসার সময় পথে আর এক সিংহ আমাকে তাড়া করেছিল । আমি তাকে বলেছি যে আপনার সাথে দেখা করেই তার কাছে ফিরে যাব।” একথা শুনে সিংহ গর্জন করে উঠে বলল, “এমন কার স্পর্ধা রয়েছে এই বনে যে আমার বিরােধিতা করে।” একথা বলে খরগোশকে সিংহ বলল, “তুই আমাকে তার কাছে নিয়ে চল।” তারা উভয়ে একটি কুয়াের কাছে গেল । এরপর খরগােশ বলল, “মহারাজ, আপনি কুয়াের উপর উঠে নিচে তাকান।” সিংহ তাই করল । সিংহের প্রতিচ্ছবি কুয়াের পানিতে পড়লে সে মনে করল যে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আর একটি সিংহ সেখানে আছে। পশুরাজ তখন লাফ দিয়ে কুয়াের প্রতিচ্ছবিকে | প্রকৃত সিংহ মনে করে তাকে বধ করতে গেল । এভাবে নির্বুদ্ধিতার।
জন্য সিংহ মারা গেল এবং পশুরা তার হিংস্রতা থেকে বেঁচে গেল ।
নীতিকথা : লােভে পাপ, পাপে মৃত্যু।
ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প পব 2(Children's Educational Stories Part 2)
বানর এবং পাখি
নর্মদা নদীর তীরে এক বিরাট বট গাছ ছিল। ঐ গাছের পাখিরা | খড়কুটা দিয়ে বাসা তৈরি করে বাস করত। সেখানে তারা ডিম পেড়ে | তাতে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটাত। সেখানে তারা খুব নিশ্চিন্তে বাস করত। | কিন্তু একদিন প্রচণ্ড ঝড় শুরু হলে পাখিরা খুব অস্থির হয়ে পড়ল তাদের ডিমের জন্য। ঝড়ের বেগ বাড়তে থাকলে কয়েকটি বানর ঐ গাছের ডালে উঠতে লাগল । পাখিরা বানরদের বলল, “বানর ভাই, তােমরা দয়া কর, আমরা আমাদের ঠোটে করে অনেক খড়-কুটো এনে কষ্ট করে বাসা বানিয়েছি। তােমাদের তাে হাত-পা আছে, তােমরা সহজেই এক গাছের ডাল ধরে অন্য গাছের ডালে গিয়ে ঝড়বৃষ্টি থেকে নিজেদের বাঁচাতে পার। আমাদের বাসাগুলাে তােমরা ভেঙে ফেল না।” পাখিদের কথা শুনে বানররা বলল, “তােমরা ঠিকই বলেছ। কিন্তু যখন ঝড়-বৃষ্টি হয় তখন তাে তােমরা তােমাদের বাসায় নিরাপদে থাকতে পার, কিন্তু আমাদের কোনাে বাসা নেই। ঝড়বৃষ্টিতে আমাদের গাছের ডালে বসে ভিজতে হয়।” পাখিদের কথায় বানরদের খুব রাগ হল। তারা বলল, “দাড়াও তােমাদের মজা দেখাচ্ছি।” ঝড়বৃষ্টি থামার সাথে সাথে বানরের দল লাফ দিয়ে গাছে। উঠে পাখিদের ডিমগুলাে খেয়ে ফেলে তাদের বাসাগুলাে ভেঙে তছনছ করে দিল।
নীতিকথা : বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিকেই পরামর্শ দেয়া যায়, বােকা ও স্বার্থপরকে নয়।


