এ পোস্টের মাধ্যমে, আমরা ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প গুলো নিয়ে পড়বো। ছোটদের শিক্ষনীয় গল্প পড়ার মাধ্যমে আমরা অনেক মজা পেতে পারি। ছোটদের শিক্ষনীয় গল্প পড়ে অনেক শিক্ষা অনেক কিছু শেখা যায়। নিচে আমরা কয়েকটি শিক্ষনীয় গল্প নিয়ে গল্প গুলো পড়ব।
![]() |
| ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প পব 1(Children's Educational Stories Part 1) |
কাক এবং হরিণ
প্রাচীন ভারতের মগধ অঞ্চলে (বিহার) এক বিশাল জঙ্গল ছিল। এর নাম চম্পাবতী। এই জঙ্গলের একটি কাক এবং একটি হরিণের মধ্যে খুব বন্ধুত্ব হয়। তারা একসাথে মিলেমিশে বাস করত। একটি গাছের ডালে কাক থাকত এবং তার নিচে বাস করত এক হরিণ । হরিণটি ছিল খুবই হৃষ্টপুষ্ট নাদুসনুদুস। এই জঙ্গলের এক গর্তে এক ধূর্ত শৃগাল তার বাচ্চাদের নিয়ে থাকত। একদিন ক্ষুধার্ত শৃগালটি গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে হরিণের সাথে আলাপ জুড়ে দিল ।
সে হরিণটিকে খাবার জন্য ফন্দি আঁটল। কিন্তু তার আগে শৃগাল হরিণের কাছ থেকে আস্থা লাভের চেষ্টা করল। হরিণের কাছে গিয়ে সে বলল, “হরিণ ভাই, তুমি কেমন আছ?” হরিণ শৃগালকে দেখে খুব ভয় পেয়ে গেল। সে তাকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কে ভাই?” তখন শৃগাল জবাব দিল, “আমি একটি শৃগাল, আমার নাম ক্ষুদ্রবুদ্ধি, আমার আত্মীয়-স্বজন সব মরে গেছে। আমি এখানে একা থাকি। তােমাকে বন্ধু হিসেবে পেলে খুব খুশি হব।” হরিণ শৃগালের কথায় খুব খুশি হল। তারা যেখানে কথা। বলছিল তার কাছে গাছের ডালে একটি কাক, যে হরিণের প্রকৃত বন্ধু ছিল সব শুনতে পেল। কাকটির নাম শুবদ্ধি। শগাল চলে গেলে কাক হরিণকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?” হরিণ। জবাব দিল, “এক শৃগাল আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে চায়। তার কথা শুনে কাক বলল, “অপরিচিত আগন্তুকের সাথে বন্ধুত্ব করা উচিত নয়।” এরপর থেকে হরিণ খুবই সচেতন হয়ে গেল। সে ধূর্ত শৃগালের। সাহচর্য ত্যাগ করল।
নীতিকথা : ভেবে-চিন্তে করি কাজ, হারি-জিতি নাহি লাজ। আগন্তুকের সাথে বন্ধুত্ব করা উচিত নয়।
শকুন এবং বিড়াল
উত্তর ভারতের ভাগীরথী নদীর তীরে এক বড় পাহাড় ছিল। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে একটি বট গাছের গর্তে এক বীভৎস শকুন বাস করত। এই বুড়াে শকুনের নাম জারদগাডা। এই গাছে যে সমস্ত পাখি বাস করত তারা শকুনকে মাঝে মাঝে খাবার দিত। এ সমস্ত খাবার খেয়ে শকুনটি বেঁচে ছিল। এর বিনিময়ে বাচ্চাদের জন্য পাখিরা যখন খাবার আনতে বাসা থেকে উড়ে যেত, তখন এই শকুন পাখির বাচ্চাদের পাহারা দিত। একদিন এক বিড়াল পাখির ছানাদের খাওয়ার জন্যগাছের নিচে এল। দীধবর্ণ নামের এই বিড়ালটি গাছের গােড়ায় এক শকুনকে দেখতে পেল। শকুন থাকায় সে সহজে গাছে উঠে পাখির বাচাদের বাসা থেকে তাদের ধরে খেতে পারল না। তখন সে এক ফন্দি বের করল। বিড়ালের ‘ম্যাও' ‘ম্যাও' আওয়াজে পাখির ছানাগুলাে 'চি' 'চ' করে চিৎকার করতে শুরু করে দিল। আওয়াজ শুনে গাছের নিচে গর্তের বাইরে মুখ বের করে শকুন একটি বিড়ালকে দেখতে পেল । শকুন বুঝতে পারল বিড়াল কেন এখানে এসেছে। শকুনের আস্থা অর্জনের জন্য বিড়াল তাকে বলল, “শকুন ভাই, আমি তােমার সাথে বন্ধুত্ব করতে এসেছি।” শকুন তাকে বলল, “তুমি নিশ্চয় পাখির ছানা খেতে এসেছ । তুমি এখনই চলে যাও, তা না হলে এখনই আমি তােমাকে মেরে ফেলব।” এরপর তােষামােদের ছলে বিড়াল শকুনকে বলল, “জীব হত্যা মহাপাপ। আমি কখনই এ কাজ করতে পারি
।” বিড়ালের কথা বিশ্বাস করে শকুন তার গর্তে বিড়ালকে থাকতে দিল। সুযােগে বিড়াল গর্ত থেকে বেরিয়ে গাছের উপরে পাখির বাসায় গিয়ে, যখন পাখিরা থাকত না তখন বাচ্চাদের খেতে শুরু করে। পাখিরা ফিরে এসে দেখে যে তাদের একটি বাচ্চাও নেই। তারা। শকুনের বাসায় গিয়ে অনেক হাড়ি এলােমেলােভাবে পড়ে থাকতে। দেখল। পাখিদের বাসায় ফিরে আসার আগেই ধূর্ত বিড়াল চলে যায় ।
পাখিরা সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নিল যে, যেহেতু শকুনের গর্তে পাখির। বাচ্চাদের হাড়ি পাওয়া গেছে সেহেতু সে-ই বাচ্চাদের মেরে খেয়েছে। এ কারণে সব পাখি একত্রিত হয়ে পাহারাদার শকুনকে হত্যা করল।
নীতিকথা : অপরিচিত লােককে বিশ্বাস করা বা অতিথি হিসেবে রাখা বিপদজনক।
হাতি এবং শৃগাল
এক বিশাল জঙ্গলে এক হাতি বাস করত। হাতিটির নাম ছিল। কাপু রতিলক। জঙ্গলটি ব্রাহ্মরণ্য নামে পরিচিত ছিল। ঐ বনের সব জীব-জন্তু একদিন পরামর্শ করল যে, যদি কোনােভাবে হাতিকে মেরে ( Aল যায় তা হলে তাদের বহুদিন খাবারের অভাব হবে না। পাখি কপ্পনা অনুযায়ী কাজ গুৱ হল। হাতিকে মারার জন্য এক ধূর্ত। পলকে দায়িত্ব দেয়া হল। শৃগাল মনে মনে ফন্দি বের করার চেষ্টা। ক ভুল। পৃগালটি কাপুরতিলক নামের হাতিটির কাছে গিয়ে পাহাড়ের
মতে তার বিশাল দেহ দেখতে পেল। জাতির কাছে পৌছে ছোট আকারের শােল মাটিতে মাথা নিচু করে তাকে সালাম জানালা । এরপর সে বলল, “হাতি মহারাজ, আমি আপনার মতো বিশাল ও সুন্দর প্রাণীকে দেখার জন্য এসেছি।” হাতি জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কে?” জবাবে শগাল বলল, “আমি এক সামান্য শগাল। এই জঙ্গলের সমস্ত পশু-পাখির তরফ থেকে আমি আপনাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। আমাদের কোনাে রাজা নেই! আপনি যদি আমাদের রাজা হন তা হলে আমরা খুব খুশি হব।” শৃগালের মিষ্টি কথায় বিশ্বাস করে। হাতি পশুদের রাজা হতে স্বীকার হল । শৃগাল এরপর বলল, “মহারাজ। দয়া করে আপনি সভাস্থলে আসুন।” একথা বলে হাতি তার শশুড় দিয়ে শৃগালের লেজ ধরে চলতে থাকল । চলতে চলতে একসময় দেয়া জলাশয়ের মধ্যে কাদায় পড়ে গেল । হাতির চারটি পা কাদার মধ্যে। এমনভাবে ডুবে আটকে গেল যে, সে আর ডাঙায় উঠতে পারল না । তখন কাকুতি মিনতি করে হাতি শৃগালকে বলল, “শৃগাল ভাই, তুমি আমাকে কাদা থেকে টেনে তুলে বাঁচাও, তা না হলে আমি এখানেই মারা যাব।” কিন্তু হাতির অসহায় অবস্থার সুযােগে জঙ্গলের সৰ পশুপাখি ঠুকরে ঠুকরে হাতির মাংস খেতে শুরু করল।
নীতিকথা : নির্বুদ্ধিতা বিপদ ডেকে আনে। কপটতা, শঠতা ও বিশ্বাসঘাতকতা নিকৃষ্ট গুণ; খােসামােদ-তােষামােদ সর্বনাশ ডেকে
আনে।
মনিব এবং পাহারাদার কুকুর
উত্তর ভারতের বারানসী শহরে এক ধােপ বাস করত। তার নাম ছিল কপূর্বপাঠক। একদিন কঠোর পরিশ্রম করে বাসায় ফিরে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ধােপা যখন রাতে গভীর ঘুমের মধ্যে ছিল তখন দেয়াল টপকিয়ে এক চোর বাড়িতে ঢুকে পড়ে। সে যখন জিনিসপত্র চুরি করছিল তখন উঠানে পাহারাদার কুকুর ঘুমিয়ে ছিল। উঠানের এক কোনায় দড়ি দিয়ে একটি গাধা বাঁধা ছিল। চোর চুরি করতে থাকলে ককর যখন ‘ঘেউ ঘেউ করে আওয়াজ করল না, তখন হঠাৎ ঘুম ভেঙে গাধা দেখল যে, কুকুর ঘুমিয়ে আছে । গাধা তখন কুকুরকে বলল, “কুকুর ভাই, তুমি পাহারাদার হয়ে তােমার কাজে অবহেলা করছ কেন? তুমি চিঙ্কার করে মনিবকে ঘুম থেকে উঠাও।” গাধার কথা শুনে বিরক্ত হয়ে কুকুর জবাব দিল, “গাধা ভাই। তােমাকে নাকগলাতে হবে না, তুমি কি জান না আমি রাত-দিন মনিবের বাড়ি পাহারা দেই অথচ তিনি আমার কোনাে আদর-যত্ন করেন না। পেট ভরে খাবার দেন না। কোনাে বিপদে না পড়লে তিনি আমার দিকে সুনজর দেবেন না।” কুকুরের কথা শুনে গাধা বলল, “তুমি কেমন পাহারাদার? পুরস্কারের লােভে তুমি কাজ কর নাকি? মনিবের কোনাে ক্ষতি হলে তুমি দায়ী থাকবে । মনিবের প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া তােমার। উচিত নয়।” | এরপরও কুকুর চিৎকার না করলে গাধা নিজেই মনিবের ঘুম ভাঙাবার জন্য ‘ভ্যা ভ্যা করে ডাকতে শুরু করল । বিকট শব্দে গাধার চিৎকার শুনে বিরক্ত হয়ে ঘুম থেকে উঠে মনিব এক লাঠি নিয়ে গাধাকে পিটাতে শুরু করল । কুকুর মজা করে তাকিয়ে তাকিয়ে তা দেখতে লাগল।
নীতিকথা : হীনমন্যতা ও স্বার্থপরতা খুবই ক্ষতিকর। বিশ্বাসী ভৃত্যের সবসময় মনিবের প্রতি আস্থা রাখা উচিত।


