তথ্য প্রযুক্তি ও যােগাযােগ প্রযুক্তির একীভূতকরণ
তথ্য প্রযুক্তি বলতে সাধারণত তথ্য রাখা এবং একে ব্যবহার করার প্রযুক্তিকেই বােঝানাে হয়। তবে বর্তমানে | তথ্য প্রযুক্তি আর এ ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নতুন নতুন সব প্রযুক্তির সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে তথ্য প্রযুক্তি এক অভিনব রূপ লাভ করেছে। এক্ষেত্রে যােগাযােগ প্রযুক্তির ভূমিকাই প্রধান। যােগাযােগ, টেলিযােগাযােগ, অডিও ভিডিও কম্পিউটিং, সম্প্রচারসহ আরাে বহুবিধ প্রযুক্তি এর সাথে যুক্ত হয়েছে। ফলে তথ্য প্রযুক্তি বা আইটি এখন আইসিটি বা তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ইন্টারনেট আবিষ্কার নিঃসন্দহে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলপলক। ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন ঘরে বসেই বিশ্বকে পাওয়া যাচ্ছে হাতের মুঠোয়। প্রচলিত চিঠির বদলে এসেছে ই-মেইল এর ব্যবস্থা যার সাথে প্রয়ােজনীয় ডকুমেন্টগুলাে সংযুক্ত করে পাঠিয়ে দেয়া যাচ্ছে বিশ্বের যে কোনাে স্থানে। ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন টেক্সট, ভয়েস ও ভিডিও চ্যাটিং, ব্রডকাস্টিং, ভিওআইপি, অনলাইন অডিও-ভিডিও স্ট্রিমিং প্রভৃতি কাজগুলাে করা সম্ভব হচ্ছে। অনলাইন রেডিও, অনলাইন টিভির মতাে সেবাগুলােও প্রসার লাভ করেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি ওয়েবসাইট তথ্যের প্রাপ্যতাকে আরও সহজ করেছে।
টেলিফোনের মাধ্যমে শব্দকে ইলেক্ট্রনিক ডাটায় রূপান্তরিত করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে প্রেরণ করা যায়। বর্তমানের টেলিযােগাযােগ ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু শব্দ নয় লেখা, গ্রাফিক্স, স্থিরচিত্র ও চলচ্চিত্র সবকিছুকেই ডিজিটাল ফরমেটে নিয়ে ইলেক্ট্রনিক ডাটায় রূপান্তর করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে প্রেরণ করা যায়।
মডেমের মাধ্যমে কম্পিউটারের সাথে টেলিফোন লাইনের সংযােগ দিয়ে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যায়। তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির আরেক শক্তিশালী উদ্ভাবন হলাে মােবাইল টেলিফোন। মুঠোয় ধরে রাখা এ ফোনের মাধ্যমে আজ বিশ্বের যেকোনাে প্রান্তে কথা বলা যাচ্ছে। যে কোনাে স্থানে এ ফোন বয়ে বেড়ানাে যাচ্ছে। আধুনিক স্মার্টফোনগুলাে আরও বেশি সুবিধা দিচ্ছে। হ্যান্ডসেটেই ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সােশ্যাল নেটওয়ার্কিং সেবা গ্রহণ, মােবাইল ফোনের মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে প্রকাশ করা যাচ্ছে। এসএমএস বা ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বের যেকোনাে স্থানেই পাঠিয়ে দেয়া যাচ্ছে তথ্য। আর এমএমএস এর মাধ্যমে প্রেরণ করা যাচ্ছে মাল্টিমিডিয়া সম্বলিত তথ্য। শুধু তাই নয় জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম এর সেবাও নেয়া যাচ্ছে মােবাইল ফোনে। স্মার্টফোনগুলাে আজ চলছে অপারেটিং সিস্টেমে। হ্যান্ডসেটগুলােতে আরও বেশি ইন্টারনেটনির্ভর সুবিধা নিয়ে এসেছে চতুর্থ প্রজন্মের মােবাইল প্রযুক্তি যার সফল বাস্তবায়ন হলাে WiMAX (Worldwide Interoperability for Microwave Access) এবং 3GPP LTE (Long Term Evolution) স্ট্যান্ডার্ড।
এতসব প্রযুক্তির সম্মিলনে তথ্য প্রযুক্তি এবং যােগাযােগ প্রযুক্তি এসেছে সমকেন্দ্রিকতায়। এদের আর এখন আলাদা করে ভাবার কোনাে অবকাশ নেই। তাই এখন এই দুই প্রযুক্তি মিলেমিশে একক একটি প্রযুক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে যাকে বলা হচ্ছে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি।
তথ্য প্রযুক্তি ও যােগাযােগ প্রযুক্তির একীভূতকরণ সারসংক্ষেপ
তথ্য প্রযুক্তি বলতে সাধারণত তথ্য রাখা এবং একে ব্যবহার করার প্রযুক্তিকেই বােঝানাে হয়। তবে বর্তমানে তথ্য। প্রযুক্তি আর এ ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নতুন নতুন সব প্রযুক্তির সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে তথ্য প্রযুক্তি এক অভিনব রূপ লাভ করেছে। যােগাযােগ, টেলিযােগাযােগ, অডিও ভিডিও কম্পিউটিং, সম্প্রচারসহ আরাে বহুবিধ প্রযুক্তি এর সাথে যুক্ত হয়েছে। ফলে তথ্য প্রযুক্তি বা আইটি এখন আইসিটি বা তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

