Type Here to Get Search Results !

ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus - টিটেনাস) : ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus - টিটেনাস) এর লক্ষণ, প্রতিষেধক চিকিৎসা, রোগর চিকিৎসা।

এই পোস্ট এর মাধ্যমে আমরা জানব , ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus - টিটেনাস) কি, ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus - টিটেনাস) এর লক্ষণ, ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus - টিটেনাস) রোগর প্রতিষেধক চিকিৎসা, ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus - টিটেনাস) রোগর চিকিৎসা।

ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus - টিটেনাস) কি

ইহা একটি জীবাণু ঘটিত ব্যাধি। “বেসিলাস টিটেনাস” নামক জীবাণু দ্বারা এই রােগের উৎপত্তি হয়। শরীরের কোন অংশ কাটিয়া গেলে ঐ স্থানে সামান্য ক্ষতের। সৃষ্টি হয় এবং সেখানে রােগ জীবাণু বাসা বাঁধে। অতঃপর ক্ষতস্থান হইতে টক্সিন নামক এক প্রকার পদার্থ সৃষ্টি হইয়া সারা শরীরে ছড়াইয়া পড়িয়া ধনুষ্টঙ্কার রােগ সৃষ্টি করে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হইবার পরে বা এবাের্শন হইলেও মা এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হইতে পারে। জীবাণু পূর্ণ ছুরি, চাকু বা ব্লেড দ্বারা সদ্যজাত শিশুর নাড়ী কাটিবার সময় শিশুর ঐ ক্ষতস্থানে রােগ জীবাণু লাগিয়া গেলে শিশু ধনুষ্টঙ্কার রােগে আক্রান্ত হয়। সিরিঞ্জ উত্তমরূপে ধৌত না করিয়া লাইলেও এই রােগ হইতে পারে। আবার জুতার তলা ছিদ্র করিয়া পায়ে পেরেক ঢুকিলে কিম্বা কোন অপারেশনের পরেও এই রােগ হইতে পারে। হাসপাতালে সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে কোন রােগীর ধনুষ্টঙ্কার থাকিলে উহা অন্য রােগীর দেহেও সংক্রামিত হইতে পারে।

ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus - টিটেনাস) রোগের লক্ষণ

১। প্রথম অবস্থায় চোয়াল লাগিয়া যায়, মুখ খােলা যায় না-ইহাকে লক্ 'জ’ বলে। 
২। রােগীর ঘাড় শক্ত হইয়া যায়।
৩। ধীরে ধীরে হাত পায়ের মাংসপেশী এবং সমস্ত শরীরের মাংসপেশী শক্ত হইয়া যায়।
৪। রােগীর খিচুনি শুরু হয় এবং ঘাড় পিছনের দিকে ধনুকের ন্যায় বাঁকিয়া যায়। খিচুনির পর বিরতি হয়, আবার খিচুনি শুরু হয়।
৫। খিচুনির সময় রােগী গােঙাইতে থাকে। রােগ যত কঠিনের দিকে যায় ততই রােগীর ঘন ঘন খিচুনি হয়।
৬। কপালের মাংসপেশী কুচকাইয়া যায়। 
৭। নাড়ীর গতি স্বাভাবিক থাকে কি বৃদ্ধি পায়। 
৮। কাহারও কাহারও জ্বর হয় কাহারও হয় না।

ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus - টিটেনাস) রোগর প্রতিষেধক চিকিৎসা

শরীরের কোন জায়গা কাটিয়া গেলে, পায়ে পেরেক ফুটিলে, অপারেশন করিবার। পর কোথাও ঘা হইলে, বাচ্চা হইবার পর প্রসূতির নবজাত শিশুর নাড়ী কাটিবার পরে, আগুনে পুড়িলে ধনুষ্টঙ্কার হইবার সম্ভাবনা থাকে। তাই পূর্ণ বয়স্কদের জন্য A.T.S 1500 Unit (এন্টিটিটেনাস সিরাম ১৫০০ ইউনিট) চামড়ার নীচে ইনজেকশন দিতে হইবে। কম বয়স্কদের জন্য কম মাত্রা দিতে হইবে।

ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus - টিটেনাস) রোগে Skin Test: 

A.T.S বা যে কোন সিরাম দেওয়ার আগে রােগীর Allergy (এলার্জি) আছে কি-না জানিতে হইবে। ১ সি, সি ঔষধ প্রথমে হাতে সাবকিউটেনিয়াস ইনজেকশন দিতে হইবে। ৫/১০ মিনিটের মধ্যে ফুলিয়া উঠিলে এবং চাকা (আধুলি পরিমাণ) হইলে ইনজেকশন দেওয়া চলিবে না।


সাবধানতাঃ এই ইনকেশন দিবার পূর্বে জানিতে হইবে যে, বিগত ছয়মাসের মধ্যে আহত ব্যক্তি AT.Sইনজেকশন লইয়াছে কি-না। ছয় মাসের মধ্যে ইনজেকশন লওয়া থাকিলে দ্বিতীয়বার আর লইবার প্রয়ােজন নাই।

 না জানিয়া ইনজেকশন দিলে সিরাম প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। রােগীর হাত পা ঠাণ্ডা হইয়া আসিতে থাকে, নাড়ী দ্রুত চলে, সারা শরীরে ইরাপশন প্রতিক্রিয়া হয়। এবং রােগী অজ্ঞান হইয়া পড়িতে পারে কি বুকে যন্ত্রণা দেখা দিতে পারে। সাবধানতা অবলম্বন করিবার পরেও যদি Reaction হয়, তবে ৫মিঃ পর পর Inj. Adrenaline 5 cc করিয়া দিতে হইবে। মাংসে Ini, Oradexon (ওরাডেক্সন) বা, Ini. Decason (ডেকাসন) দিতে হইবে। B. P কমিলে I.y Dextrose দিতে হইবে। রােগীর মাথার দিক নীচ করিতে হইবে এবং পায়ের দিকে অর্থাৎ খাটের পায়া উচু করিতে হইবে।

ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus - টিটেনাস) রোগের চিকিৎসা

 ১। আক্রান্ত হইবার সঙ্গে সঙ্গে রােগীকে কোলাহলহীন অন্ধকার ঘরে শােয়া অথম মাখতে হবে। অতঃপর তৎক্ষনাৎ ডাক্তার ডাকিয়া চিকিৎসা করিতে হইবে। যত দেরীতে চিকিৎসা হইবে রােগীর প্রাণের আশা তত কমিতে থাকিবে। কাজে কাজেই সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করাই শ্রেয়।


২। প্রথমে পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির আক্রান্ত অবস্থায় ৪০ হাজার হহতে ৬০ হাপান ইউনিট A T S ইনজেকশন দিতে হইবে। ২৪ ঘন্টা পর হইতে প্রতাপন ১০ ইউনিট করিয়া ইনজেকশন দিতে হইবে। রােগ হিসাবে ১ লাখ হইতে ২ লাখ পর্যন্ত প্রয়ােজন হইতে পারে।

৩৷ শরীরে ঘা থাকিলে:

গরম পানি ও ডেটলের সাহায্যে বা হাইভােগেন। পার-অক্সাইডের সাহায্যে ক্ষত স্থানটি বােয়াইয়া একটি গজ দ্বারা ব্যাণ্ডেজ করিয়া দিতে হয়।

৪। খিচনির জন্য ঔষধ খাওয়াইতে না পারিলে Diazepam (ডায়াজিপাম) যুক্ত ঔষধঃ 

Inj. Fizepam (ফাইজিপাম) 10 mg, বা Inj. Seduxin (সিডাক্সিন) 10 mg. বা Inj. Inzepam (ইনজিপাম) 10 mg. বা, Inj. Sedil (সেডিল) 10 mg. বা Inj. Sedopam (সেডােপাম) 10 mg.
 
অথবা, 
Chopromazine HCL (কোরােমাজিন) যুক্ত ঔষধঃ

Inj. Largactil (লার্গাকটিল)। 
মাত্রাঃ ১টি এ্যামপুল মাংসে ইনজেকশন দেওয়া যায়।।

অথবা,

বােগী ঔষধ খাইতে পারিলেঃ 

Tab. Largactil 25 mg. (লার্গাকটিল ২৫ এম.জি) বা, Tab. Gurdinal (গার্ডিনাল) 60/30 mg. বা, Tab. Phenobarbiton (ফেনাবারবিটন)-60/30mg.

মাত্রাঃ ১বড়ি করিয়া দিনে ৩ বার। ৫৷ ক্ষত স্থানের জন্য রােগীকে ঔষধ খাওয়াইতে পরিলে।

Ampicillin গ্রুপের অথবা, Amoxycillin গ্রুপের ইনজেকশন দেওয়া যায়৷

৬। রােগীকে প্রচুর পরিমাণ খাবার খাইতে হইবে। মুখে খাইতে না পারিলে ন্যাসাল টিউবের মাধ্যমে খাওয়াতে হইবে।

৭ প্রসাব না হইলেঃ ক্যাথিটার দ্বারা প্রস্রাব এবং পায়খানা না হইলে ডুস দ্বারা পায়খানা করাইতে হইবে অথবা, Glycerine Suppository (গ্লিসারিন। সাপােজিটরী) ব্যবহার করিতে হয়।

৮। রােগী অর্থ চৈতন্য অবস্থা থাকিলে Inj. Dexaqua (ডেক্সএকোয়া) বা, Inj. Libott (লিবােট) বা, Inj. Opso Saline (অপসাে স্যালাইন) এর সাথে ভিটামিন ঔষধ মিশাইয়া শিরায় মিনিটে ৩০/৩৫ করিয়া দেওয়া যাইবে।

ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus - টিটেনাস) রোগ বিস্তার

গরু, ঘােড়া ইত্যাদি পশুর বিষ্ঠায় টিটেনাস জীবাণু থাকে। এই বিষ্ঠায় মাটি দূষিত হয়। শরীরের কোন ক্ষত জিনিষের সংস্পর্শে আসিলে এই রােগ হইবার সম্ভাবনা থাকে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.