Type Here to Get Search Results !

কিডনী প্রদাহ, কি কি কারণে কিডনী প্রদাহ হয়,কিডনী প্রদাহের চিকিৎসা(Kidney Inflammation, What Causes Kidney Inflammation, Treatment Of Kidney Inflammation)

কিডনী প্রদাহ, কি কি কারণে কিডনী প্রদাহ হয়,কিডনী প্রদাহের চিকিৎসা(Kidney Inflammation, What Causes Kidney Inflammation, Treatment Of Kidney Inflammation)

কিডনী প্রদাহ, কি কি কারণে কিডনী প্রদাহ হয়,কিডনী প্রদাহের চিকিৎসা
কিডনী প্রদাহ, কি কি কারণে কিডনী প্রদাহ হয়,কিডনী প্রদাহের চিকিৎসা

এই পোস্টের মাধ্যমে কিডনী প্রদাহ, কিডনী প্রদাহের ইংরাজী, কি কি কারণে কিডনী প্রদাহ হয়,কিডনী প্রদাহের চিকিৎসা, কিডনী প্রদাহের জটিলতা নিয়ে জানব।

কিডনী প্রদাহ, কি কি কারণে কিডনী প্রদাহ হয়,কিডনী প্রদাহের চিকিৎসা(Kidney Inflammation, What Causes Kidney Inflammation, Treatment Of Kidney Inflammation)

কিডনী প্রদাহ (Inflamation of Kidney)

কিডনী কি 

কিডনী মানুষের শরীরের একটি মূল্যবান সম্পদ। মানুষের শরীরের অপ্রয়ােজনীয় ও দুষিত জলীয় পদার্থ শরীর হইতে ছাঁকিয়া বাহির করার জন্য যে যন্ত্রটি কাজ করে, তাহার নামই কিডনী। 

কিডনী রক্তকে পরিষ্কার করিয়া থাকে। আমরা যতই জলীয় পদার্থ পান করি না কেন, যতটুকু শরীরের প্রয়ােজন ততটুকুই শরীরে রাখিয়া বাকি অংশ মুত্ররূপে শরীর হইতে বাহির হইয়া যায়। যদি কোন কারণে শরীর হইতে ঐ সকল জলীয় পদার্থ বাহির হইতে না পারে, তাহা হইলে শরীরে শােথ দেখা যায়। শরীরে সােথ দেখা দিলে শরীর অসুস্থ হইয়া পড়ে। যদি এমনি অবস্থা কয়েক ঘন্টা চলে তবে শরীরের কোষের মধ্যে পানি জমিয়া যাইবে। ফলে কোষগুলির নিউট্রেশন বন্ধ হইয়া পচন দেখা দিবে। তখন মৃত্যু অনিবার্য।

কিডনী প্রদাহের ইংরাজী নাম কি

কিডনী প্রদাহের ইংরাজী নাম নেফ্রাইটিস। 

কিডনী প্রদাহের কারণ

১) অনেক সময় ডিপথেরিয়া, হাম, টাইফয়েড জ্বর, বসন্ত, ম্যালেরিয়া, ইরিসিপেলাস, কলেরা, টাইফাস, আমাশয় প্রভৃতি পাড়ার পরেও এ হইতে পারে।

২) ভিজে বা স্যাতস্যাতে স্থানে বসবাস এবং অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগিবার কারণে কিডনীতে রােগ দেখা দিতে পারে।

৩) এ্যালকোহল এই রােগের অন্যতম কারণ হিসাবে বিবেচ্য।

৪) অজীর্ণ রােগে আদার রস সেবনে কিডনীর রােগ হইতে পারে।

৫/ ম্যালােরিয়া জ্বর, সিফিলিস, যক্ষা, স্কার্লেট বা আরক্ত জ্বর প্রতি পীড়া। হইতেও কিডনী প্রদাহ হইতে পারে।

৬) আগুনে মারাত্মক ধরণের পুড়ে যাওয়ার ফলে কিডনী রােগ হইতে পারে।

৭) বিভিন্ন ধরণের চর্মরােগকেও কিডনী প্রদাহের কারণ হিসাবে ধরা। যাইতে পারে।

৮) এ্যালকোহল, পারদ ইত্যাদির অপব্যবহার করিলেও কিডনী প্রদাহ হইয়া থাকে।

৯) অতিরিক্ত আঘাত ও পরিশ্রমজনিত কারণেও কিডনী প্রদাহ হইতে পারে।

বহুবিধ জানা-অজানা কারণে কিডনী প্রদাহ হইতে পারে

প্রস্রাব পরীক্ষায় পাসসেল বেশী পাওয়া গেলে এবং উহার চিকিৎসা না করিলে কিডনী প্রদাহ হইতে পারে। তরুণ কিডনী প্রদাহ,২, সপ্তাহ হইতে ২, মাস পর্যন্ত থাকিতে পারে বা ক্রণিক প্রদাহেও পরিণত হইতে পারে। তরুণ প্রদাহ হঠাৎ করিয়া শুরু হয় কিন্তু ক্রণিক প্রদাহ রােগীর অজান্তেই শুরু হয়।

১) তরুণ প্রদাহে প্রাথমিক পর্যায়ে রােগীর ১০৩০/১০৪০ পর্যন্ত জ্বর থাকিতে পারে এবং পিঠ হইতে কোমর পর্যন্ত খিচিয়া ব্যথা শুরু হয়।

২) শরীরে রক্তহীনতা দেখা দেয়, গায়ের চামড়া শুকনাে, খসখসে ও ফ্যাকাসে হয়।

৩) রােগীর ক্ষুধাহীনতা প্রকাশ পায়।

৪) শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয় এবং জ্বালাপােড়া বেশীর জন্য রােগী পেশাব করিতে খুব কষ্ট পায়।।

৫) মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা ও নাড়ীর গতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

৬) রােগীর বমি বমি ভাব হয় বা বমন হইতে পারে।

৭) শােথ প্রথমে চোখের নীচের পাতা ও পায়ের গেটে দেখা দেয়। ৮) ধীরে ধীরে শশাথে রােগীর সমস্ত শরীর ফুলিয়া যায়।

ঠাণ্ডা লাগার কারণে কিডনী প্রদাহ হইলে রােগীর সর্বাঙ্গ শরীরে শােথ দেখা দেয়। বৃদ্ধি পাইলে প্রস্রাব কমিয়া যায়, আবার শােথ কমিয়া গেলে প্রস্রাবের পরিমাণ। বৃদ্ধি পায়। তরুণ প্রদাহে প্রস্রাব একেবারেই বন্ধ হইয়া যাইতে পারে। প্রস্রাবের পরিমাণ হাস পায় কিন্তু প্রস্রাব পরীক্ষায় প্রস্রাবের Specific Gravity (আপেক্ষিক গুরুত্ব)। বদ্ধি পায়। প্রস্রাব পরীক্ষায় Albumin, Epithelium, Fatty cost, Blood ইত্যাদি পাওয়া যায়। প্রস্রাবের তলানীতে RB,C ও W.B.C পাওয়া যায়। এইজন্য প্রস্রাবের রং লাল, ঘােলাটে আবার কখনাে স্বাভাবিক থাকে।

পুরাতন (ক্রোণিক) কিডনী প্রদাহের বেলায় রােগীর ক্ষুধামন্দা, আলস্যতা, অজীর্ণতা, অন্ত্রের গােলযােগ, উদরাময়, কোষ্ঠবদ্ধতা, আমাশয় ইত্যাদি হইয়া থাকে। সন্ধ্যায় পায়ের গােড়ালী ফুলিয়া উঠে এবং রাত্রে বৃদ্ধি পায়। Ascites Plural Cavity-তে পানি জমে, অণ্ডকোষে পানি জমে, শােথে মুখমণ্ডল ভার দেখায়।

কিডনী প্রদাহের জটিলতাঃ

কখনাে কখনাে পেরিকারডাইটিস, পেরিটোনাইটিস, পালমােনারী কনজেসশন, মেনিনজাইটিস, রেটিনাইটিস, নিউমােনিয়া ও হৃদরােগ ইত্যাদি হইতে পারে।

তরুণ কিডনী প্রদাহের বেলায় রােগী হঠাৎ আরােগ্যলাভ করিতে পারে। ঠাণ্ডা লাগার ফলে যদি কিডনী প্রদাহ হয়, তাহা হইলে অল্প সময়ে রােগী আরােগ্য লাভ করে। সাধারণত তরুণ কিডনী প্রদাহ ১-৬ সপ্তাহ স্থায়ী থাকে। যদি দুই মাস বা ততােধিক কাল স্থায়ী হয় তখন পুরাতন পীড়ায় আক্রান্ত হয়। পুরাতন কিডনী প্রদাহের ফলে অধিকাংশ রােগী মারা যায়। তবে অনেক রােগী সুদীর্ঘকাল রােগে ভােগার পর, মারা যায়।

কিডনী প্রদাহের চিকিৎসা

১। ব্যথার তীব্রতার উপর নির্ভর করিয়া ঔষধ দিতে হয়। প্রচণ্ড ব্যথার জন্য। Diclofenac Sodium (ডাইক্রোফিন্যাক সােডিয়াম) যুক্ত ঔষধ ঃ 

Ini. Clofenac (ক্লোফিন্যাক) বা, Inj. Diclofen (ডাইক্লোফিন) বা, Inj. A-lenac (এ্যাফিনাক) বা Inj. Vurdon (ভারডন)।

মাত্রাঃ 

১টি করিয়া ইনজেকশন মাংসে ৮ ঘন্টা পর দিতে হয়৷ ব্যথা কম হইলে ইনজেকশন না দিয়া উপরের ঔষধের বড়ি দিতে হয়ঃ

Tab. Ultrafen (FDP) 25/50mg. 71,Tab. A-Fenac (4ফিন্যাক)25/50mg, বা,Tab. Clofenac (ক্লোফিন্যাক) 25/50mg, বা,Tab. Diclofen 25/50mg.

মাত্রাঃ 

১ বড়ি করিয়া প্রত্যহ ৩ বার খাবার মাঝে বা খাবার পর।

অথবা, 

VOItarene Suppository (ভন্টারিন সাপজিটরী) ১২ঘন্টা পর পর মলদ্বারে। ব্যবহার করিতে হয়।।

২/ Cotrimoxazole (কোটাইমােক্সাজল) যুক্ত ঔষধঃ

_Tab. Cotrim (কাম) বা Tab. Fisat (ফাইস্যাট) বা, Tab. Bactipront (বেকটিপ্রন্ট) বা Tab. Polytim (পলিট্রিম) বা Tab. Chemotrim (কেমােম)।

মাত্রাঃ 

পূর্ণ বয়স্ক ২ বড়ি সকালে ২ বড়ি বৈকালে ১২ ঘন্টা পর পর খাইবে। শিশুদের জন্য সিরাপ প্যাকেটে বর্ণিত মাত্রানুযায়ী সেব্য।

অথবা, 

Nalidixic Acid (নেলিডােক্সিক এসিড) যুক্ত ঔষধঃ


Tab. Nalegram (নেলিগ্রাম) 500 mg. বা, Tab. Sy./ Nalid (নেলিড) 500mg, বা Tab. D-gram (ডি-গ্রাম) 500mg বা Tab. / Sy. Uritex (ইউরিটেক্স) 5OOmg বা, Cap. Nevegramon (নেভিগ্রামন) 500mg. মাত্রাঃ ২টি করিয়া দিনে ৩ বার ৫/৭ দিন। শিশুদের জন্য সিরাপ।

অথবা, 

Ciprofloxacin (সিফ্লোক্সাসিন) যুক্ত ঔষধঃ

Tab. Neofloxin (নিওফ্লোক্সিন) বা, Tab. Ceprocin (সিপ্রােসিন) বা, Tab. Ciprox (সিপ্রােক্স) বা, Tab. Floxalbid (ফ্লোক্সাবিড)।

_(১বড়ি = 250mg, Ciprofloxacin) মাত্রাঃ ২৫০-৫০০ মিঃগ্রাঃ দিনে ২বার। খাবার ১/২ ঘন্টা পর খাওয়াইতে হয়।

পথ্য ও আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থা

১। রােগীর তরুণ উপসর্গগুলি না কমা পর্যন্ত রােগীকে বিছানা হইতে উঠিতে দেওয়া হইবে না।
২। রােগীর পায়ে যেন কোন প্রকার ঠাণ্ডা না লাগে সেই দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখিতে হইবে।
৩। রােগীকে প্রচুর পরিমাণে তরল পদার্থ পান করার জন্য উৎসাহিত করিতে। হইবে।।
৪। এই রােগের জন্য উত্তম পথ্য দুধ। দুধে এ্যালবুমিন আছে। দুধ পান করানাের আগে তাহা ভালভাবে ঝাকিয়া লইতে হয়। ইহাতে দুধ সহজে হজম হয়।
৫। রােগ সম্পূর্ণ আরােগ্য না হওয়া পর্যন্ত চা, কফি, এ্যালকোহল ও মসলাযুক্ত খাবার বন্ধ রাখিতে হইবে।
৬। পানির সহিত লেবুর রস মিশাইয়া পান করিলে উপকার হয়। লেবুর রস ডাইইউরেটিক হিসাবে কাজ করে। প্রদাহ ও এ্যালবুমিন নিঃসরণ কমায়।
৭। রােগী আরােগ্য হইলে ১-২ মাস পর্যন্ত গােস্ত, ডাল ও ভাত খাওয়া চলিবে না। তবে পরে সিদ্ধ ডিম ও নরম ভাত দেওয়া যায়।
৮। কেবল দুধের উপর নির্ভর না করিয়া আলু, পটল, ডুমুর, মানকচু ইত্যাদির। ঝােল ভাত দেওয়া যায়।
৯। Ascorbic Acid (এসকবিক এসিড) যুক্ত ঔষধ অর্থাৎ Tab. Vitamin-C১টি করিয়া দিনে ৩ বার চুষিয়া খাইতে হয়।
১০। ৫/৭ দিন পর প্রস্রাব পরীক্ষা করিয়া পুনরায় প্রয়ােজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা লইতে হয়।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.