Type Here to Get Search Results !

রত্ত কি । লসিকা, লসিকাতন্ত্র ও লসিকাগ্রন্থি কাকে বলে। লসিকার কাজ

হাই বন্ধুরা আমার এই পোস্ট এর মাধ্যমে , রক্ত কি বা কাকে বলে, লসিকা, লসিকাতন্ত্র ও লসিকাগ্রন্থি, লসিকার কাজ সম্পর্কে বিস্তরিত জানতে পারব।

মানব শারীরতত্ত্ব: রক্ত ও সংবহন ইউনিট HUMAN PHYSIOLOGY : BLOOD & CIRCULATION

মানবদেহের বিভিন্ন অংশে নানা ধরনের কাজ ও সংশ্লিষ্ট জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াসমূহ ঘটে। দেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকলাপের মধ্যে যােগাযােগ প্রতিষ্ঠা করে রক্ত সংবহনতন্ত্র। এতে করে অঙ্গসমূহের মধ্যে প্রয়ােজনীয় উপাদানের আদানপ্রদান সম্পন্ন। দেহে এরূপ সংবহনের ফলে সকল জীবিত কোষ প্রয়ােজনীয় খাদ্যোপাদান, অক্সিজেন, হরমােন, খনিজ লবণ, পানি, ভিটামিন ইত্যাদি পেয়ে থাকে এবং অপ্রয়ােজনীয় বর্জ্য পদার্থ দেহমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট অঙ্গসমূহে তা প্রেরণ করতে পারে। মূলত রক্ত, রক্তবাহিকা, হৃদপিণ্ড নিয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গড়ে উঠে। অর্থাৎ রক্ত সংবহনের জন্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গসমূহের পারস্পরিক সহযােগিতায় যে তন্ত্র গড়ে উঠে তাই হলাে রক্ত সংবহনতন্ত্র। আগের শ্রেণিতে আপনারা রক্ত ও সংবহন সম্পর্কে যতটুকু পড়েছেন তারই ধারাবাহিকতায় এ ইউনিটে রক্ত ও সংবহন সম্পর্কে বিস্তারিত আলােচনা করা হবে।


রক্ত ও লসিকা সংবহন

এই আরটিকেলটি শেষে আপনি যে বিষয় গুলো জানতে পারবেন

  • রক্ত সম্পর্কে বলতে পারবেন
  • রক্তের শ্রেণিবিভাগ উল্লেখ করতে পারবেন
  • লসিকা, লসিকাতন্ত্র ও লসিকাগ্রন্থি ব্যাখ্যা করতে পারবেন
  •  লসিকার কাজ উল্লেখ করতে পারবেন।

রক্ত : 

রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যােজক কলা। রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬-৩৮° সেলসিয়াস। অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মােট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান

মানব দেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলাে রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লােহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়।

লসিকাতন্ত্র 

মানব দেহে রক্ত একটি অন্যতম পরিবহন মাধ্যম যার মাধ্যমে প্রয়ােজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন কোষ কলায় (Tissue) পৌঁছে এবং বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ রেচনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গে বাহিত হয়। অন্যদিকে দেহের সমস্ত কলা (Tissue) রক্তপূর্ণ কৈশিক জালিকায় বেষ্টিত থাকে। রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালির প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে। এ উপাদানগুলােকে লসিকা (Lymph) বলে। 

কৈশিক জালিকা ছাড়াও কিছু পরিমাণ কলারস এক ধরনের বদ্ধ নালি দিয়ে গৃহীত ও পরিবাহিত হয়ে পুনরায় রক্তে ফিরে আসে। এ সব নালিকে “লসিকা নালি” (Lymph vessels) বলে। অতএব লসিকা, লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি সমন্বয়ে গঠিত অন্ত্রকে “লসিকাতন্ত্র” বলে। 

লসিকা: 

এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। এতে লােহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। যেমন- প্রােটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সােডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

লসিকা নালি (Lymph vessels)

লসিকা জালিকা থেকে কতকগুলাে নালি একত্রে মিলিত হয়ে লসিকা নালি গঠিত। লসিকা নালি দু'ধরনের। যথা- 
(১) অন্তর্মুখী লসিকা নালি ও 
(২) বহির্মুখী লসিকা নালি। 

অন্তর্মুখী লসিকা নালি: 

যে নালি লসিকাকে লসিকা গ্রন্থির দিকে বহন করে তাকে অন্তর্মুখী লসিকা নালি বলে। 

বহির্মুখী লসিকা নালি: 

যে নালি লসিকা গ্রন্থি হতে লসিকা বহন করে, তাকে বহির্মুখী লসিকানালি বলে।


সাধারনত পেশি সঞ্চালন, শ্বাস কাজ ও ধমনির কাপনে দেহে লসিকা প্রবাহিত হয়। অন্ত্রের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লসিকাকে ল্যাকটিয়াল বলে ।

রত্ত কি । লসিকা, লসিকাতন্ত্র ও লসিকাগ্রন্থি কাকে বলে। লসিকার কাজ
মানুষের লসিকাতন্ত্র



থাইমাস গ্রন্থি কাকে বলে?

লসিকা নালিতে বেশ কাছাকাছি অবস্থিত গােলাকার বা ডিম্বাকার ফোলা অংশগুলােকে “লসিকা গ্রন্থি” বলে। যান্ত্রিক ছাঁকুনি হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন জীবাণু ও ক্ষতিকর কোষের হাত থেকে এগুলাে দেহকে রক্ষা করে। ঘাড়ে, বগলে ও কুঁচকিতে লসিকা গ্রন্থি থাকে। 

লসিকার কাজ 

  • প্রােটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রােটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
  • স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলাে লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। 
  • পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
  • শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শােষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। 
  • প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়ােজিত থাকে। 
  • প্রতিরােধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরােধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
  • দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়।
রত্ত কি । লসিকা, লসিকাতন্ত্র ও লসিকাগ্রন্থি কাকে বলে। লসিকার কাজ
লসিকা সংবহনের রেখা

সারসংক্ষেপ

রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যােজক কলা। এর p" মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। মানবদেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা বা (Blood corpuscles) বলে। এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলা রস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। লসিকা জালিকা থেকে কতকগুলাে নালি একত্রে মিলিত হয়ে লসিকা নালি গঠিত। লসিকা নালি দু'ধরনের। যথা- (১) অন্তর্মুখী লসিকা নালি ও (২) বহির্মুখী লসিকা নালি। লসিকা নালিতে বেশ কাছাকাছি অবস্থিত গােলাকার বা ডিম্বাকার ফোলা অংশগুলােকে “লসিকা গ্রন্থি” বলে।


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.