ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প পব 6(Children's Educational Stories Part 6)
![]() |
| ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প |
ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প
ব্রাহ্মণ এবং সিংহ
কোনাে এক শহরে এক ব্রাহ্মণ বাস করত। তার চার সন্তান ছিল । তাদের মধ্যে খুবই সদ্ভাব ছিল। জ্যেষ্ঠ তিন ভাই খুবই বিচক্ষণ এবং শাস্ত্র সম্বন্ধে যথেষ্ট জ্ঞান ছিল; কিন্তু সাধারণ বুদ্ধির অভাব ছিল। ছােট ভাই তেমন বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী ছিল না। কিন্তু তার সাধারণ জ্ঞানবুদ্ধি ছিল প্রখর। এক দিন চারভাই পরামর্শ করল, জ্ঞানবুদ্ধি থেকে কি লাভ, যদি তা প্রয়ােগ করা না হয়। তারা পরামর্শ করে রাজদরবারে চাকরির খোঁজে গেল। পথে বড় ভাই বলল, “ছােটভাই-এর জ্ঞানবুদ্ধি নেই। সাধারণ জ্ঞান নিয়ে কি চাকরি পাওয়া যাবে?” মেজো ভাই তাকে সমর্থন করে বলল যে, ছােট ভাই-এর এ কারণে বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত। মেজোভাই বাধা দিয়ে বলল, “আমরা চার ভাই একসাথে মানুষ হয়েছি। একসাথে বন্ধুর মতাে খেলাধুলা করেছি। সে আমাদের সাথে থাক।” তারা একসাথে যাত্রা করে এক গভীর জঙ্গলে। এসে এক গাছের নিচে সিংহের হাড় দেখতে পেল । তখন তারা সকলে। বলল, “দেখা যাক কে হাড়গুলাে জোড়া দিয়ে সিংহকে প্রাণ দিতে পারে।” জ্ঞানবুদ্ধিহীন ছােটভাই তার সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে বলল, “ভাইয়েরা তােমরা কখনই এ ধরনের কাজ করবে না। কারণ সিংহ জীবন ফিরে পেলে আমাদের মেরে ফেলবে।” সেজোভাই তখন বললেন, “আমার জ্ঞানবুদ্ধি কি এভাবেই আমি নষ্ট করব!” তখন ছােট ভাই সেজোভাইকে বলল, “একটু অপেক্ষা কর আমি গাছে উঠে যাওয়ার পর তুমি সিংহকে জিন্দা কর।” একথা বলে চট করে ছােট ভাই গাছের উপরে উঠে ডালে বসল । তৃতীয় ভাই তার জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে হাড় জোড়া দিয়ে সিংহকে জীবন দান করল। সিংহ তার প্রাণ ফিরে পেয়ে তিন ব্রাহ্মণ ভাইকে মেরে ফেলল এবং ছােট ভাই গাছে উঠে প্রাণে রক্ষা পেল ।
নীতিকথা : সাধারণ জ্ঞান বিদ্যা-বুদ্ধির চেয়ে উত্তম।
ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প
বণিক এবং নাপিত
উত্তর ভারতে পাটালিপুত্র (পাটনা) নামে এক সমৃদ্ধ নগরী ছিল । মনিভদ্র নামে সেখানে এক বণিক বাস করত। সে খুবই অবস্থাপন ছিল, দান করত এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যােগ দিত। কিন্তু ভাগ্যের দোষে সে ব্যবসায়ে অনেক লােকসান দেয় এবং সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে তার মানসিক বিপর্যয় ঘটল। এক পর্যায়ে সে আত্মহত্যার চিন্তাভাবনা করতে লাগল। এ সমস্ত কথা চিন্তা করতে করতে সে ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে সে এক মাথা ন্যাড়া জৈন ভিক্ষু পুরােহিতকে দেখতে পেল। এই পুরােহিত তাকে বলল। “মহাশয়! আপনি চিন্তা করবেন না। আমার নাম পদ্মনিধি। আমি আপনার কাছে এই বেশে সকালে আসব । আপনি আমাকে একটি লাঠি দিয়ে আঘাত করলে আমি একটি স্বর্ণপিণ্ডে পরিণত হয়ে যাব। আপনি পর্যাপ্ত সােনা পেলে আপনার কোনাে অভাব থাকবে না ।” সকালে উঠে বণিক চিন্তা করল যে তার স্বপ্ন সফল হবে কিনা? এ। দিকে বণিকের স্ত্রী তার স্বামীর জন্য একজন নাপিতকে বিকালে যে। আসতে বলেছিল তা বণিকের জানা ছিল না। সকালে উঠে সদর দরজা খুলতেই সত্যই স্বপ্নে দেখা ন্যাড়া মাথাসম্পন্ন এক জৈন ভিক্ষুকে দেখা গেল। দেখার সাথে সাথে বণিক মােটা লাঠি দিয়ে তার মাথায় এমন। জোরে মারল যে সে সঙ্গে সঙ্গে একটি সােনার পিণ্ডতে পরিণত হল । এই সময়ে নাপিত বণিকের বাড়ির ভিতরে প্রবেশের দরজায় এসে এই দৃশ্য দেখল। বণিক নাপিতকে দামী পােশাক ও অন্যান্য উপঢৌকন দিয়ে অনুরােধ করল যে সে যেন এই ঘটনা অন্য কারও কাছে না বলে । নাপিত তার কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে গেল। মধ্যাহ্ন ভােজনের পর সে শহরের প্রধান জৈন মন্দিরে গিয়ে প্রধান পুরােহিত এবং তার সাথীদের তার বাসায় আসার নিমন্ত্রণ দিল। তারা প্রথমে রাজি না হলেও নাপিতের পীড়াপীড়িতে পরে যেতে রাজি হল। পরের দিন দুপুরে নাপিত জৈন মন্দিরে গিয়ে প্রধান পুরােহিতসহ অন্যান্য ভিক্ষুদের তার বাসায় নিয়ে এল। তারা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে বাইরের দরজা বন্ধ করে দিল। এরপর উঠানের কোনায় রাখা মােটা লাঠি দিয়ে হঠাৎ ভিক্ষুদের ন্যাড়া মাথায় আঘাত করতে লাগল এই আশায় যে বণিক যেভাবে জৈন ভিক্ষুর মাথায় আঘাত করে। স্বর্ণপিণ্ড পেয়েছিল সেভাবে স্বর্ণখণ্ড পাবে । র আঘাতে প্রধান পুরােহিত ও অন্যান্য ভিক্ষু স্বর্ণপিণ্ডে পরিণত না হয়ে মাথা ফেটে রক্ত বের হয়ে মারা গেল। ফলে নাপিতকে হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত করে তার প্রাণদণ্ড দেয়া হল ।
নীতিকথা : মিথ্যা অনুকরণ বর্জনীয়। লােভ-লালসা ধ্বংস আনে।
ছোটদের মজার মজার শিক্ষনীয় গল্প
সারস এবং কাঁকড়া
কোনাে এক দেশে এক বিশাল জলাশয় ছিল। সেখানে নানা ধরনের জলজ প্রাণী বাস করত যেমন, বিভিন্ন রকমের মাছ, ব্যাঙ, কাছিম
এবং কাঁকড়া। এই জলাশয়ে এক সারসও বাস করত। সে এতই দুর্বল। ছিল যে তার শিকার ধরে খাবার মতাে শক্তি ছিল না। জলাশয়ের ধারে এসে সে আহাজারি করতে করতে চোখের পানি ফেলতে শুরু করল। তার কান্নার শব্দে পানির সব মাছ ও কাঁকড়া তার প্রতি সহানুভূতি দেখাতে লাগল। তারা জিজ্ঞাসা করল, “সারস ভাই, আপনি কাঁদছেন কেন? এভাবে অসহায় অবস্থায় দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলতে কেন?” সারস বলল, “দুঃখের কথা কি বলব। আগামী বারাে বা বৃষ্টি হবে না এবং এখানকার সমস্ত খাল-বিল, পুকুর শুকিয়ে যাবে । এজন্য মাছ, কাছিম, কাকড়ারা অন্য জলাশয়ে চলে যাচ্ছে ।” মাছ । কাকড়া জিজ্ঞাসা করল, “আপনি কীভাবে জানলেন?” সারস জবাব দিল, “আমাকে এক জ্যোতিষী এ কথা বলেছে।” সারসের কথা শুনে। মাছ ও কাঁকড়ার দল ভয় পেয়ে গেল কারণ, পানি শুকিয়ে গেলে তারা। বাচতে পারবে না। তারা সারসকে জিজ্ঞাসা করল, “তা হলে। আমাদের বাঁচার উপায় কি?” সারস বলল, “তােমরা যদি আমার পিঠে চড়ে বস তা হলে আমি তােমাদের এক এক করে অন্য জলাশয়ে। নিয়ে যেতে পারি।” এভাবে যখন মাছদের এক এক করে পিঠে নিয়ে। উড়ে যেতে লাগল তখন দুষ্ট প্রকৃতির ও লােভী সারস তাদের মেরে ফেলে খেতে লাগল। জলাশয়ের কোনাে মাছ ও কাকড়া জানতে পারল যে সারস তাদের খেয়ে ফেলছে। মাছদের এক এক করে এভাবে পিঠে নিয়ে অন্য জলাশয়ে নিয়ে যাওয়ার ভান করে খাবার পর সারস কাকড়াদের উঠিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হল। একটি কাকড়া সারসের পিঠে উঠে উড়ে যাওয়ার সময় নিচে তাকিয়ে অসংখ্য মাছের কাটা দেখতে পেল । এর ফলে কাকড়ার ধারণা হল যে উড়ে যাওয়ার সময়। সারস মাছগুলাে মেরে খেয়েছে। তখন কাঁকড়া নিজেকে বাঁচাবার জন্য সারসের পিঠ থেকে সারসের গলায় এসে তার ধারালাে ছুরির ফলার মতাে মুখ দিয়ে জোরে কামড় দিল । এর ফলে সঙ্গে সঙ্গে সারস মারা গেল এবং কাকড়া জলাশয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচল।।
নীতিকথা : দুষ্ট প্রকৃতির এবং অসৎ লােকের সংসর্গ ত্যাগ করা।
উচিত।


